সিসি ডেস্ক: ট্রেনের একটি বগি বুক করে দাগ, রং লেগে বাতিল হওয়া এবং ছেড়া নোটের বান্ডিল নিয়ে যাচ্ছিল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে ২২৬টি স্টিলের ট্রাংকের ভেতরে ৩৪২ কোটি টাকা মূল্যের বাতিল নোট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যার ওজন ছিল ২৩ টন।
পাশের কামরায় একজন সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে পুলিশ দল ছিল পাহারায়। কিন্ত চলন্ত ট্রেন থামার পর দেখা যায়, এত নিরাপত্তার মধ্যেও চুরি গেছে টাকা। এমনটিই ঘটেছে ভারতে।
জানা যায়, তামিলনাড়ুর সালেমের পাঁচটি ব্যাংক থেকে ছেঁড়া এবং বাতিল নোট সংগ্রহ করে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে প্রাদেশিক রাজধানী চেন্নাইয়ে নিয়ে যাচ্ছিল রিজার্ভ ব্যাংক। বাতিল সব নোটই পুড়িয়ে ফেলার কথা ছিল। মঙ্গলবার সকালে সালেম এক্সপ্রেস এগমোর স্টেশনে পৌঁছানোর পরেই ঘটনাটি রিজার্ভ ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
রিজার্ভ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ওই বিশেষ কামরার দরজা খুলতেই দেখেন ছাদ থেকে সূর্যের আলো ঢুকছে। কামরার ভেতরে ছড়িয়ে আছে টাকা এবং বেশ কয়েকটি বাক্স ভাঙ্গা। ট্রেনের ছাদে উঠে পুলিশ দেখেন, সেখানে দুই ফুট বাই দুই ফুটের একটি গর্ত। তারপর টাকা গুণতে গিয়ে দেখা যায় ৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা চুরি গেছে।
তবে রেল পুলিশের আইজিভি রামসুব্রমনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘সব টাকা গোনা শেষ হওয়ার পরেই বোঝা যাবে ঠিক কত টাকা চুরি গেছে। কিভাবে চুরিটা হলো, সে ব্যাপারে কিছু সূত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই সেটা বলা যাবে না।’
পুলিশের ধারণা, এরপর বিরুধাছালাম স্টেশনে টাকা নিয়ে পালায় দুষ্কৃতকারীরা। কারণ রাত দেড়টার দিকে সেখানে কয়েক মিনিটের জন্য ট্রেনটি দাঁড়িয়েছিল। বিরুধাছালাম স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজেও কয়েকজনকে জোর করে ট্রেনের ছাদের ভেন্টিলেটর খোলার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। বিরুধাছালামের আগের কোনো স্টেশন থেকে চোরেরা ট্রেনে উঠেছিল বলে ধারণা পুলিশের। সেসব স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টাকা ভর্তি কামরার নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ জানায়, প্রতিটি স্টেশনেই তারা পরীক্ষা করে দেখেছে যে তালা আর সিল ঠিক আছে কিনা। পুলিশ ছাদের দিকে নজর দেয়নি কারণ অত শক্ত ইস্পাতের ছাদ যে চলন্ত ট্রেনে কাটা যেতে পারে, এটা তারা কল্পনাও করেনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান টাইমস