• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরকে সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে তুলি

নওশাদনওশাদ আনসারী: প্রাণের শহর আমার সৈয়দপুর। এলাকার মধ্যে মাদক,জুয়া,সন্ত্রাস সর্বপরি সকল প্রকার অপকর্ম কিভাবে প্রতিহত করা যায় এ নিয়ে মহল্লার এক ফুটপাতি হোটেলে ঘরোয়াভাবে বসে আলোচনার আয়োজন করেছিলাম। ইহাতে আমার কিছু হামদরদ ছাড়াও খাছ মেহমান ছিলেন দিলদার মিয়া,রহমত আলী ও ডাক্তার সাহেব।
আমিতো আর রাজনৈতিক দলের নেতা নই’যে হোটেল রেডিসন ব্লু’তে কিংবা সোনার গাঁ হোটেলে ঘরোয়া আলোচনার উপর বাহবাহ লাভের আশায় লাল ঝান্ডা উড়াইব। আলোচনার মধ্যে দিলদার মিয়া এলাকার মধ্যে মাদকের ছড়াছড়িতে আফসোস জাহির করিলেন। মাদক কহিলেও আজকাল তেমন কেহ কর্ণাপত করে না লেকিন ইয়াবা বলিলে সাথে সাথে নড়িয়া চড়িয়া উঠেন কারন আজকাল সৈয়দপুর শহরে স্থানীয় ভাষায় এই বাবারই দাপট চলিতেছে।
শান্তির শহর সৈয়দপুর। যে শহরকে আমরা নির্বিঘেœন রাত ১.০০ টা, ২.০০ হলেও লাখ টাকা নিয়ে আরামে হাটা যায় বলিয়া গর্ভবোধ করিতাম আজ সেই শহর মাদকের ছড়াছড়িতে শান্তির শহর আজ অশান্তির শহরে রুপান্ত্রিত হতে চলিয়াছে। সাপ্তাহিক খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে শহরের বেশিরভাগ যায়গা আজ মাদকের আখড়া। গোলাহাট, রসুলপুর, হাতিখানাকে আজ সবাই অন্য হিসেবে চিনতে শুরু করিয়াছেন। পুরো সৈয়দপুরকে মাদক ও ক্রিকেট জুয়া গিলিয়া খাইতেছে। কথাগুলো বলছিলেন দিলদার মিয়া, আর আমরা চুপ করিয়া শুনিতেছিলাম।
বাহিরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হইতেছে মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ার সহিত আশে পাশে কোথাও বিকট আওয়াজে বজ্রপাত হইতেছে। আবহাওয়া সহনীয় হওয়ায় কিছুটা স্বস্থিবোধ করিতেছি। ষড়ঋতুর দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ লাগিয়াই আছে। ঘুর্ণিঝোড়, বন্যা এইগুলি জনজীবনে স্বাভাবিক হইয়া গিয়াছে। উত্তরাঞ্চলের তামাম এলাকাকে নিজের গর্ভে নিয়েছে বন্যা। উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ,গৃহপালিত প্রাণীদের এই বন্যা স্বীমাহীন কষ্ট বৃদ্ধি করিয়া দিয়াছে। আজকাল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মানুষ নার্গিস, রোয়ানু আবার কখনো আইলা নামে চেনে। ডাক্তার সাহেব কহিলেন, আজকাল ঘুর্নিঝোড় কহিলে মানুষ তেমন কর্ণপাত করে না। তাই এই ছুরতে এই নামকরণ হইয়াছে। যেমন সন্ত্রাসী কহিলে মানুষ তেমন ঘা করেন না লেকিন এরশাদ শিকদার, কালা জাহাঙ্গীর কহিলে তখন ঠিকই মানুষ নড়িয়া-চড়িয়া বসে। এই নামগুলির পিছনে একটি ভয়ংকর চেহেরা ভাসিয়া উঠে। আসলে সব ভুল। আসল কথা হইল মানুষ হিম্মত হারাইয়া ফেলিয়াছে। মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়া ভুলিয়া গিয়াছে। একাত্তরে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হইয়াছিল বলিয়া পাকিস্তানের সুসজ্জিত একটি সেনার দলকে এই মুল্লুক হইতে বিতাড়িত করিতে পারিয়াছিল। সে ক্ষেত্রে এই কালা জাহাঙ্গীর সহ আজকের সমাজের কীট মাদকব্যাবসায়ী কিংবা ছিচকে সন্ত্রাসীরা কোন ক্ষেতের মুলা?
বজ্রপাতের বিকট শব্দে ডাক্তার সাহেব বার বার নড়িয়া উঠিতেছে। রহমত আলী ইহা দেখিয়া মিটি মিটি হাসিতেছে। সৈয়দপুরে মাদক,সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মুল্যবৃদ্ধি ও মানুষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ আসিলে আমি সব সময় আত্মশুদ্ধির কথা কহিয়া থাকি। প্রত্যেকে যদি আত্মশুদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন, তবেই সমাজে শান্তি ফিরিয়া আসিবে। কারণ রাজনীতিবিদ,ব্যবসায়ী,পুলিশ,লেখক,আলেম সমাজসহ সমাজের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ যখন পরিপূর্ণ শুদ্ধ হইয়া যাইবে তখন সমাজ হইতে অন্যায় দুর্নীতি,গুম,খুন নিঃশেষ হইয়া যাইবে। তখন আর নিরাপত্তার জন্য কাহারো নিকট দাবি জানাইতে হইবে না। লেকিন আমার কথা দিলদার মিয়া বুঝিতে পারে না। আমি যখন আত্মশুদ্ধির কথা বলি, নিজের দোষ-ত্র“টির বয়ান করি তখন আমার ভাইদের খারাপ লাগে। আমাকে দুশমন মনে করিয়া নানা অসাড় যুক্তির উক্তি দ্বারা অন্ধকারে মুক্তির সন্ধান করিয়া থাকে। তাহারা একটি বারও ভাবিয়া দেখেন না। আত্মসমালোচনা না করিলে আমাদের দোষগুলি চিহ্নিত হইবে না। দোষ চিহ্নিত না হইলে সংশোধন কেমন করিয়া হইবে?
দেশের মন্ত্রীদের মত সৈয়দপুরের রাজনীতিবীদরাও সৈয়দপুরে স্রেফ উন্নয়নের জোয়ার দেখিতেছেন। কিন্তু মাদকের জোয়ারে শহরের বড় অংশ সকাল-বিকাল যে ডুবিয়া যাইতাছে তাহা দেখিতেছেন না। উন্নয়নের জোয়ারে তাহারা সাঁতার কাটিলেও আমরা সৈয়দপুরবাসী গোলাহাট, হাতিখানা, রসুলপুর, বাঙ্গালীপুর সহ অন্যান্য পাড়া থেকে ধেয়ে আসা মাদকের জোয়ারে হাপুস হাপুস করিতেছি।
আলোচনায় ছোট ভাই আয়ান কহিলো দিলদার সাহেব এই সময়তো আপনার আমার সুযোগের, সারা দেশের ন্যায় সৈয়দপুরের পুলিশও মাদক,সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঝাপিয়া পড়িয়াছে। বার বার অপরাধীদের ব্যাপারে আম আওয়ামের কাছে তথ্য চাহিতেছে। আমাদের উচিত অপরাধীদের ব্যাপারে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। দিলদার সাহেব কহিলেন তা ঠিক লেকিন আমাদেরও উচিত এই ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা যাতে মহল্লার কেহ অপরাধ,মাদক,জুয়াতে জড়াইয়া না পড়ে। লেকিন এটা একার পক্ষে সম্ভব নয় বলিলেন ডাক্তার সাহেব।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে এদিকে বাহিরে বৃষ্টির ধারও কমিয়া গিয়াছে। আমি কহিলাম সারাদিন আমরা শুধু পুলিশের ব্যাপারে গিবত করিয়া থাকি। লেকিন আজ যখন প্রশাসন এসবের ব্যাপারে কঠোর তাহলে আমাদের উচিত প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। মাদক, সন্ত্রাস, সর্বপ্রকারে অপরাধের ব্যাপারে প্রশাসনের এই কঠোরতা সব সময় থাকুক। বিশ্বাস করুন আমাদের জনসাধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচার চেষ্টা আর প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাসী হামলাতো দুরের কথা সেদিন থেকে মসজিদের বারান্দা থেকে মুসল্লীদের জুতা সেন্ডেলও চুরি হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে…..।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ