সিসি নিউজ: নীলফামারীর জলঢাকায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শিবির নেতা আব্দুল কাদিমকে(৪২) গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নের চৌধুরী হাট নামক স্থানে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে ঢাকার উত্তরার পূর্ব ও পশ্চিম থানায় নীলফামারীর জলঢাকার উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নের দেশীবাই গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের শিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদিমের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরন আইনের পৃথক তিনটি মামলা হয় । ২০১২ সালের নবেম্বর মাসে দ্রুত বিচার আইনের জিআর ৬৪০/১২, জিআর ৬৩৯/১২ এবং জিআর ১০৫/১২ ওই সব মামলায় পৃথক পৃথক ভাবে ৭ বছর করে সাজা প্রদান করে আদালত। আসামী পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে। সাজাপ্রাপ্ত ওই আসাসীকে গ্রেফতারে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলে জন্য জলঢাকা থানায় নির্দেশ আসে।
জলঢাকা থানা পুলিশ শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদ পায় উক্ত আসামী তার নিজবাড়ির অদুরে চৌধুরী বাজার জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের জন্য প্রবেশ করেছে। তাৎক্ষনিভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা মসজিদের অদুরে রাস্তায় অবস্থান নেয়। নামাজ শেষে আসামী যখন নিজ বাড়ি ফিরছিল সে সময় রাস্তায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় ওই এলাকার জামায়াত ও শিবির লোকজন পুলিশের উপর চড়াও হয়ে আসামী আব্দুল কাদিমকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায় দ্রুত বিচার আইনের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ধরার সময় ওই এলাকার জামায়াত শিবিররা বাধা সৃস্টি করে আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাঠালী ইউনিয়নের জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার মামলা দায়ে প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে ।
এদিকে জলঢাকার খুটামারা ইউনিয়নের এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায় তাদের এলাকার টেঙ্গনমারী ডিগ্রি কলেজে সম্প্রতিকালে উক্ত আব্দুল কাদিমকে অর্থনীতি বিষয়ে ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার আসামী আরাফাত হোসেনকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় অতিগোপনে। ওই কলেজের ম্যানেজিং কমিটি ও খুটামারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি খুটামারা ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম মোঃ শামীম এই নিয়োগ দুইটি গোপনে প্রদান করেন। সুত্র মতে আব্দুল কাদিম টেঙ্গরমারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুজ্জামান লিটনের আপন বোন জামাই।
এ ব্যাপারে আবু সায়েম মোঃ শামীমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে তিনি অসুস্থ্য থাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে পারেননি।