কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাবার সাথে কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সাগর চন্দ্র। অসহায় মেধাবী সাগরের বাড়ী উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের মুশরুত নাখেন্দা গ্রামে। পিতা ভোলা চন্দ্র পেশায় কাঠ মিস্ত্রী, মাতা কৌশল্যা রানী একজন গৃহিনী। কিন্তু দারিদ্রতায় ঘেরা সাগর চন্দ্র অর্থাভাবে আর উচ্চ শিক্ষা নিতে পারছে না। অকালেই ঝড়ে পড়তে পারে তার পড়াশুনা। পড়াশুনায় প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকার পরও উপায়ান্ত না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার সেই কাঠমিস্ত্রীর হাল ধরতে হচ্ছে তাকে। এসএসসি পরীক্ষায়ও তার ফলাফল সন্তোষজনক। কিন্তু মেধাবী ছাত্র সাগরের বাবার শুধু বসতবাড়ী ছাড়া কিছু নেই। ৩ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট সে। দারিদ্রতার কারণে বাকী ভাইবোন পড়া লেখায় তেমন এগিয়ে যেতে পারেনি। বাবা ভোলা চন্দ্র দৈনিক ২শত থেকে ৩শত টাকা কাঠ মিস্ত্রীর শ্রম বিক্রি করে। তাই দিয়ে গোটা পরিবার কোন রকমে চলে। কোন কোন দিন তাদের উনুন জ¦লতো না। তারপরও মা কৌশল্যারও ইচ্ছা ছিল ছেলে পড়ালেখা করে আদর্শ শিক্ষক হয়ে সংসারের সুখ বয়ে নিয়ে আসবে। এলাকার ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাবে। এদিকে সংসারে অভাব থাকায় বাবার কাজে সাগর সহযোগীতা করতো। দিনের বেলা অন্যের বাড়ীতে বাবার সহযোগী হিসেবে শ্রম দিতো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই বই-খাতা-কলম নিয়ে পড়তে বসতো। এভাবে তার পড়াশুনা চলতো। রাজারহাট কারিগরী বানিজ্যিক কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন সাগর চন্দ্রকে গরিব মেধাবী ছাত্র হিসেবে পড়াশুনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। গত এইচএসসি পরীক্ষায় সাগর জিপিএ- ৫ পাওয়ায় তার কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শিক্ষকরা তার ভবিষ্যৎ উজ¦ল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কিন্তু এই গরিব মেধাবী ছাত্র সাগর চন্দ্র আজ বড় অসহায়। দরিদ্রতার করাল গ্রাসে সে কলেজে ভর্তি হতে পারছে না। উচ্চতর ডিগ্রী নেয়া সহযোগীতা করতে তার পরিবারের পক্ষ্যে সম্ভব হচ্ছে না। তার জীবন এখন অন্ধকারে। সাগরের সাথে কথা হলে সে কেঁদে কেঁেদ জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার আশা ছিল। তাই অতিকষ্টে পড়াশুনা চালিয়ে এইচএসসিতে এ-প্লাস পেলাম। কিন্তু বাবা আমার খরচ দিতে না পারায় পড়াশুনা এই পর্যন্ত শেষ হয়ে যাবে। সাগর চন্দ্রের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, ওই পরিবারটি নিরিহ এবং অসহায়। আমি সুখে- দুঃখে তাদের খোঁজ নেই। সকলের সহযোগীতা হলে সে ভাল ডিগ্রী নিতে পারতো।