সিসি নিউজ: ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল আ্যান্ড কলেজের মেধাবী ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার (১৪) হত্যাকারী ওবায়দুল খান নীলফামারীর ডোমারে এলাকাবাসীর হাতে আটক হয়েছে। আজ বুধবার ভোরে নীলফামারী-ডোমার সড়কের খানাবাড়ী এলাকায় জনতা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সূত্রমতে, মঙ্গলবার রাতে ঘাতক ওবায়দুল তার দুলাভাইয়ের ছোটভাই খুশবুর খোজে ডোমারে আসে। ডোমার অফিসে খুশবুকে না পেয়ে সে তার মোবাইলে কথা বলে। খুশবু তাকে আটক করার জন্য কৌশলের আশ্রয় নেয়। সে ডোমার ব্র্যাক অফিসের অফিস সহকারী সাহাদাতকে ফোনে জানায় ওবায়দুলকে চা খাওয়ানোর জন্য এবং যাতে সে তাকে সঙ্গ দেয়। এদিকে খুশবু তাকে ধরে দেওয়ার জন্য বীরগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করে।
ঘাতক ওবায়দুল ডোমারে অবস্থান করছেন গোপন সংবাদ পেয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকার রমনা থানার উপ-পরিদর্শক মোশারফ হোসেনসহ একদল পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। খুনী ওবায়দুলকে ধরতে রাত ৮টার দিকে ডোমার ব্র্যাক অফিসে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাতক ওবায়দুল পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ডোমার ব্র্যাক অফিসের অফিস সহকারী সাহাদাত হোসেন, পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার শাখার ব্র্যাকের অফিস সহকারী ও খুনি ওবায়দুলের দুলাভাইয়ের ছোটভাই খুশবুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভোর রাতে সুযোগ বুঝে আত্মগোপনে থাকা ওবায়দুল ডোমার হতে নীলফামারী শহরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় ডোমার উপজেলার নীলফামারী-ডোমার সড়কের খানাবাড়ী এলাকায় তাকে স্থানীয় জনগন আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ রাজিউর রহমান ওবায়দুলকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ আগষ্ট রাজধানীর উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রীজের কাছে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে বৈশাখী টেইলার্স এর কাটিং মাষ্টার ওবায়দুল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ আগষ্ট রবিবার রিশা মারা যায়। রিশাকে ছুরিকাঘাত করার পরদিন তার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রিশার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
ঘাতক ওবায়দুলের বাড়ী দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে। তার বাবা মৃত আব্দুস সামাদ। ওবায়দুল বৃহস্পতিবার নিজ এলাকায় তার বোনের বাড়ীতে আসে। সেখানে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে ঘাতক ওবায়দুল পালিয়ে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বড় বোন খাদিজা ও দুলাভাই খাদেমুলকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখে।