নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেটের বিরুদ্ধে বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে ৭ জনকে নিয়োগ দেয়াসহ অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ওই পৌরসভার ছয় কাউন্সিলর। শনিবার দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মাথায় আর্থিক অনিয়মসহ উন্নয়ন কর্মকান্ড সমভাবে বন্টন না করা এবং ভিজিএফ’র চাল বিতরণের অভিযোগ করা হলো।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জলঢাকা পৌরসভার সাত নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রহমত আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পৌর পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা ও রেজুলেশন ব্যতিরেকে বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে সচিব আশরাফুজ্জামানের সহযোগীতায় অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ও অদক্ষ ৭ জনকে নিয়োগ প্রদান করেন। নিয়োগের জন্য জনপ্রতি অন্তত দশ লাখ করে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এছাড়া মেয়র ও প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন যোগসাজশ করে পৌরসভার রাজস্ব খাতের অর্ধকোটি টাকা ভুয়া ভাউচার ও প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মসাত করেন।
৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রনজিত কুমার রায় অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মেয়র নয়টি ওয়ার্ডে সমহারে উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্টন না করে নিজ এলাকায় সুযোগ সুবিধা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এছাড়া গেল রোজার ঈদে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে ভিজিএফ’র ১২টন চাল আত্মসাত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নয় নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহসিন আলীর ছেলে মামুনার রশিদ লাইসেন্স পরিদর্শক এবং ছয় নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজলুর রহমানের মেয়ে নয়ন মনি টিকাদানকারী পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় তাদের নিয়োগ দেয়া হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র ফাহমিদ ফায়সাল কমেট জানান, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্তেই সব কাজ করেছি। ওইসব বৈঠকে সব কাউন্সিলরের স্বাক্ষর রয়েছে।
স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রশাসনের তদারকিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিয়োগের ব্যপারে বলা যায়, আমি ছিলাম নাম মাত্র।