• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুর থেকে বিষাক্ত সুপারি যায় উত্তরাঞ্চলের বাজারে

dsc02404এম আর মহসিন: সৈয়দপুরের আড়ৎ হতে প্রতি মৌসুমে ৩০ কোটি টাকার হাইড্রোস মিশ্রিত বিষাক্ত কাচাসুপারি উত্তরের ১৬ জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ হচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এ বিষাক্ত কেমিকেল যুক্ত সুপারি সেবনে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি সেবনে লিভার,কিডনি বিকল কিংবা ক্যান্সারের মতো মরন ঘাতক ব্যাধি শরিরে ছড়াতে পারে। তারপরেও নজর নেই সংশ্লিষ্টদের।তাই এ বিষাক্ত সুপারি সরবরাহ বন্ধে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন স্থানিয় সচেতন মহল।

জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাইকারি সুপারির আড়ৎ হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর। এ আড়তের ব্যাবসায়িরা দেশের দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, নোয়াখালি, পঞ্চগড়, চিলাহাটি হতে পানিতে পচা সুপারি আমদানি করেন। পরে পাশ্ববতিসহ প্রায় ১৬ জেলার ব্যাবসায়িরা এ আড়ৎ হতে সুপারি কিনে নিজ নিজ এলাকায় সরবরাহ করেন। এতে ব্যপক সুপারি সরবরাহ হয় এ বাজার হতে।
আর ওই আড়তের ট্রাক আনলোড কারী আনোয়ার নামে এক শ্রমিক জানান, জুলাই মাস হতে শুরু করে ১০ মাস কাচাসুপারির ট্রাক আসে এ আড়তে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ শত বস্তা সুপারি নজরুল ও শাহজাহান আড়তদারের গোডাউনে ঢোকে। এগুলো শুধুই গাঢ় হলুদ রঙয়ের। পাইকারি সুপারি ব্যাবসায়িরা জানান, এখানকার আড়তদারের কাচাসুপারি গুলো যায় উত্তরাঞ্চলের সব জেলার বাজারে। খুচরা ব্যাবসায়িদের এ সুপারির প্রতি আগ্রহ বেশি ও তুলনামুলক সস্তা দরের কারনে। শুকনা সুপারি ৩মাস পাওয়া যায়। এর পর পুরো বছরেই এ সুপারির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে হাইড্রোস মিশ্রিত কওে ভিন্ন এলাকার ব্যবসাায়িরা সুপারি পাঠালে পানি পচার বিকট গন্ধ থাকে না। আবার রংটা ভালো থাকে। পাশাপাশি এটি সহজে নষ্ট হয়না।
এ বাজারের আরিফ নামে এক পাইকারি সুপারি ব্যাবসায়ি জানায়, বর্তমানে ১ বস্তা সুপারির মুল্য ১৮শত টাকা। তাই ৩০ কোটি টাকার সুপারি পুরো মৌসুমে আমদানি রপ্তানি হয়। এ পানিতে পচা সুপারি নিয়ে শহরের কুন্দল এলাকার পান দোকানদার তৈয়ব আলী ও বিজলি সিনেমা রোডের আকবর জানান, শতকরা ৮০জন পান সেবি এ কাচা সুপারি যুক্ত পানে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কাচা সুপারিযুক্ত পান বিক্রয় করছি। তবে ক্ষতির কথা না জানলেও এতে হাইড্রোস মিশ্রিতের কথা স্বিকার করেন পান দোকানিরা।
দির্ঘদিন যাবত বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত সুপারির এ ব্যাবসা চললেও এ তথ্য জানেন না বলে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ অহিদুল হক জানান। তবে মানবদেহের জন্য এমন ক্ষতিকর সুপারি যারা বাজারজাতে সহায়তা করছে তা তদন্ত করে উর্ধ্বতনদের নিয়ে বন্ধের ব্যাবস্থা করবেন বলে মতামত দেন। বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ আলম মাস্টার বলেন, খাদ্যে বিষ এমন বিষয় কেউ মেনে নিতে পারে না। অনতি বিলম্বে এটি বন্ধে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়ার আহবান জানান এ বর্ষিয়ান রাজনিতিক।
এদিকে, চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাইড্রোস হচ্ছে একটি বিষাক্ত কেমিক্যাল। এটি কোন ভাবেই প্রানির দেহে সামান্য পরিমান সেবনের অনুমতি নেই। এর ক্ষতিকর প্রভাবে কিডনি ফেইলর,লিভার ফেইলর ও শরিরের যে স্থানে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা শতভাগ রয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহাজুর আলম সুমন বলেন, এ সুপারি সেবিদের ঠোটের দুই কোনে সাদা ঘা দেখা যায়। এ ছাড়া মরনব্যধি তো রয়েছে। যা অত্যন্ত ব্যায় বহুল। তাই এসব বন্ধে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ মুসা জঙ্গীর সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাই ভেজাল কারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ