আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘মন্টেফিয়র মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসার সময় হিলারি ক্লিনটন মারা গেছেন’ – এমন একটি ভয়াবহ খবর প্রচার করে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবিসি নিউজ।আসলে এটি কোনো খবর নয়, ভয়াবহ ধরনের গুজব। আর আর এই গুজটিই খবর আকারে প্রচার করেছে বহুল আলোচিত মিডিয়া এবিসি নিউজ। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
না, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী, সাবেক ফার্স্ট লেডি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন মারা যাননি। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক ছিল না। তবে তিনি নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তেমন খারাপ ছিল না। কিন্তু এরপরও তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। সেখানেই শেষ নয়, খবরে আরো জুড়ে দেয়া হয়- ‘ডেমোক্র্যাটরা নতুন মনোনয়ন-প্রক্রিয়া নিয়ে মতভিন্নতায় রয়েছে।’
এবিসির এ খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন মিডিয়া আরো নানা কাহিনী বলে খবরটি প্রকাশ করতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও আরো এক ধাপ ওপরে ওঠে।
কিভাবে এমন খবর প্রকাশিত হলো? নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দেখা যাচ্ছে এ নিয়ে। কেউ হয়তো নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে এই ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে।
বৃটেন ভিত্তিক এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কে ৯/১১ স্মরণসভায় অসুস্থ হয়ে পড়েন হিলারি। তিনি পুরো সময় সেখানে থাকতে পারেননি। হাসপাতালে ভর্তি হন। নির্বাচনী প্রচার কাজ স্থগিতও রাখেন। কিন্তু তাই বলে এত বড় খবর? এছাড়া তিনি ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কার্যক্রমে ফিরে এসেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, হিলারির মৃত্যুর খবর নিয়ে গুজবের সূত্রপাত্র ঘটে নিউইয়র্কের ডব্লিউএবিসি টিভির নিউজ অ্যাঙ্কর জো টরেসের একটি ছোট ভুল থেকে। তিনি হিলারির খবরটিতে হিলারির স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথা ‘হেলথ’ বিষয়ে বলতে গিয়ে বলে ফেলেন ‘ডেথ’।
পরে তদন্তে দেখা যায়, ওই অ্যাঙ্কর আসলে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল করেননি। এটাকে বলা যায় উচ্চারণগত বিভ্রাট।
কিন্তু সেটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিশেষ করে টুইটারে ঝড় বয়ে যায়। তখনই এবিসি নিউজ সেটাকে বিকৃত করে প্রকাশ করে। তবে তারা কিন্তু তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে খবরটি প্রকাশ করেনি। আর তাতেই দ্রুত সবাই বুঝতে পারে, এটা মিথ্যা খবর। কিন্তু ততক্ষণে নানা ডালপালা গজিয়ে গেছে। আর এ নিয়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়ছে।
ব্রিটেন ভিত্তিক এক্সপ্রেস অবলম্বনে