• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

‘আমার কবরে এক মুঠো মাটি দিস খোকা’

%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%beসিসি ডেস্ক: ‘আমার কবরে এক মুঠো মাটি দিস খোকা।’ এটাই শেষ চাওয়া মিরা চৌধুরীর। মৃত্যুর শেষ সময়ে সন্তানের প্রিয় মুখটি দেখতে পাবেন কি না তাও জানেন না তিনি। একটা সময় স্বামী, সন্তান, চাকরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতেন মীরা চৌধুরী। এখন তার নেই কোনো ব্যস্ততা, নেই কোনো সংসার। একমাত্র ছেলে থাকে আমেরিকায়। আর স্বামীর মৃত্যুর পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রবীণ নিবাস এখন তার ঠিকানা। মিরা চৌধুরী কামরুন্নেসা স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ চুকিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন খুলনা কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা হিসেবে। মিরা চৌধুরীর স্বামী মশিউর চৌধুরী ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-এর ডিরেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। ছয় বছর আগে তিনি মারা গেছেন। মিরা চৌধুরীর একমাত্র ছেলে অপূর্ব হাসান চৌধুরী আমেরিকার ফ্লোরিডায় বসবাস করেন। রাজধানীর দিলু রোডে একটি বাড়ি ছিল মীরা চৌধুরীর। ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করতে সে বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। ছেলে উচ্চশিক্ষিত হবে সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে মিরা চৌধুরীর। কিন্তু নিজেকে প্রবীণ নিবাসে থাকতে হবে এ স্বপ্ন কখনেই দেখেননি। চার বছর ধরে প্রবীণ নিবাসে আছেন তিনি। প্রবীণ নিবাসে তার একমাত্র সঙ্গী বিড়াল দুখু মিয়া। তার সঙ্গেই সুখ দুঃখ ভাগ করে নেন মীরা চৌধুরী। একদম বাচ্চা বয়স থেকে দুখু মিয়াকে পেলে বড় করেছেন মীরা চৌধুরী। এখন বিড়ালটির বয়স দুই বছর। রোববার দুপুরে প্রবীণ নিবাসে মীরা চৌধুরীর কক্ষে গিয়ে দেখা গেলে দুখু মিয়া ও মিরা চৌধুরী দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। কেমন লাগে এখানে জিজ্ঞেস করলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মীরা চৌধুরী বলেন, এখানে কারো ভালো লাগে না। তারপরও বাধ্য হয়ে থাকতে হয়। শরীরটা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন শরীরটা বেশি ভালো যাচ্ছে না। হাইপ্রেসার, মুখে রুচি নেই। ছেলের কথা জানতে চাইলে মিরা চৌধুরী বলেন, চার বছর ধরে প্রবীণ নিবাসে আছি একবার দেখতে আসেনি ছেলে। এ নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। ছেলে বিদেশে ভালো আছে। ও যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক। আমি আর কয় দিন। নারিন্দায় স্বামীর কবরের পাশে জায়গা কিনে রেখেছি। এখন এখানে আছি মরে গেলে সেখানেই হবে শেষ ঠিকানা। জানিনা ছেলের সঙ্গে দেখা হবে কি না। পায়ের কাছে বসে থাকা বিড়ালটিকে দেখিয়ে মীরা চৌধুরী বলেন, এই দুখু মিয়াই আমার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী। একদম ছোট থেকে সে আমার কাছে। আমার সঙ্গে খায়, আবার সঙ্গেই ঘুমায়। প্রবীণ নিবাসের খরচ কীভাবে চালান জানতে চাইলে মীরা চৌধুরী বলেন, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা রয়েছে। সেখান থেকে প্রতি মাসে আমার চাচাতো বোনের নাতিকে চেক লিখে দিই। সে এসে টাকা তুলে দিয়ে যায়। এখানে বেড ভাড়া দুই হাজার টাকা আর খাবার খরচ আড়াই হাজার টাকা। মোট সাড়ে চার হাজার টাকা লাগে। মিরা চৌধুরী সম্পর্কে প্রবীণ নিবাসের ম্যানেজার ডা. মোহম্মদ আমানউল্লাহ বলেন, চার বছর ধরে তিনি এই নিবাসে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। দুই বছর আগে তিনি একটি স্ট্রোক করেছিলেন। তখন থেকেই তার হাঁটতে সমস্যা হয়। শুনেছি তার একমাত্র ছেলে আমেরিকায় থাকেন। কখনই তার ছেলেকে এই নিবাসে আসতে দেখিনি বা সে এই নিবাসের সঙ্গেও কোনো রকম যোগাযোগ করেননি। মিরা চৌধুরীর দুঃসম্পর্কের এক নাতি এসে প্রতি মাসে হোমের খরচ দিয়ে যায়। আমরা হোমের পক্ষ থেকে চেষ্টা করি যতটা সম্ভব তাকে সেবা দিতে।
উৎসঃ   মানব জমিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ