• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বিমাখাতে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম

%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%beসিসি ডেস্ক: দেশের বিমাখাতে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জানা গেছে, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) গঠন হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে বিমা খাতে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। আইডিআরএর নিরীক্ষায়ই এসব অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে। যদিও এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সূত্র মতে, বিমা আইন-২০১০ পাসের পর ২০১১ সালে গঠন হয় আইডিআরএ। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন এম শেফাক আহমেদ। এ সময়েই বিমা খাতের আটটি কোম্পানির হাজার কোটি টাকার অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। অনিয়মগুলোও সংঘটিত হয়েছে ওই সময়েই।

জানা গেছে, ভুয়া এজেন্টদের কমিশন দেয়া, অনুমোদনহীন বিমাপণ্য বিক্রি, জমি ক্রয়, গাড়ি বিক্রি ও অবৈধ পারিতোষিকের মাধ্যমে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে ৩২০ কোটি টাকা অনিয়মের প্রমাণ পায় আইডিআরএ। চলতি বছরের শুরুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষ নিরীক্ষায় এ অনিয়ম উঠে আসে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল লাইফ ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪- এই তিন বছরে শুধু কমিশন খাতেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করেছে। কমিশনের এ অর্থের সিংহভাগই দেয়া হয়েছে নিবন্ধন নেই এমন এজেন্টদের। জমি ক্রয়, গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ও পরিচালকদের পারিতোষিক (বেতন-ভাতা) বাবদ অনিয়ম হয়েছে আরো প্রায় ২০ কোটি টাকা।

এসব অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পর কোম্পানিটির ব্যাখ্যা তলব করে আইডিআরএ। গত আগস্টে কোম্পানিটি ব্যাখ্যা দিলেও এ ব্যাপারে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় এ আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করে আসছে আইডিআরএ।

যোগাযোগ করা হলে লোকবল সংকটের কথা বলেন আইডিআরএর সদস্য জুবের আহমেদ খান। তিনি বলেন, কোনো তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়ার দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার একার নয়। আমরা লোকবল সংকটে রয়েছি। খাতটির আর্থিক অনিয়ম রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লোকবল বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে আইডিআরএর এ বক্তব্য অযৌক্তিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়া হাজার কোটি টাকার মালিক সাধারণ গ্রাহক। তাই এর দায়দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ এড়াতে পারে না। লোকবল সংকটকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হলেও তা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে ১২০ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়ে ওই সময়ই কোম্পানিটিকে চিঠি দেয় আইডিআরএ। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এ নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রায় একই সময়ে ৫০ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে।

একইভাবে আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে হোমল্যান্ড, গোল্ডেন লাইফ, পদ্মা লাইফ, জীবন বিমা করপোরেশন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ও সানফ্লাওয়ার ইন্স্যুরেন্সের মতো কোম্পানিরও। কোনোটির বিরুদ্ধেই আজ অবধি আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি আইডিআরএ।

এসব অনিয়মের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা আইডিআরএর লোকবল সংকট দূর করার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া অন্য কোনো কারণে তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকলে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, জমি কেনার নামে ২০১২ সালে দুটি ব্যাংক থেকে ১৫১ কোটি টাকা ঋণ নেয় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ ঋণের বিপরীতে বিমাগ্রহীতার সঞ্চয় ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তহবিলের একটি অংশ জামানত হিসেবে রাখে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া কোম্পানিটি উন্নয়ন ব্যয় শিরোনামে দুই বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় দেখালেও উন্নয়নের কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জীবন বিমা করপোরেশন (জেবিসি) তিন বছরে মোট ১৯২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় করেছে। এর মধ্যে ১৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকাই ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয়ের ৯৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির এ বিপুল পরিমাণ ব্যয়কে অস্বাভাবিক মনে করছে আইডিআরএ নিজেও। যদিও এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে সম্পদের মিথ্যা তথ্য দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে আইডিআরএ। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে কোম্পানিটি সম্পদের যে তথ্য দিয়েছে, তার সঙ্গে পদ্মা লাইফের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই। এ দুই বছরে পদ্মা লাইফ ১৫৭ কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছে।

এদিকে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে কৃত্রিমভাবে জীবন বিমা তহবিল (লাইফ ফান্ড) বাড়ানোর সত্যতা পেয়েছে আইডিআরএ। এছাড়া কোম্পানিটিতে প্রায় ৬৮ কোটি টাকার লেনদেন অনুমোদনহীনভাবে হয়েছে, যার কোনো দালিলিক প্রামাণ নেই। চলতি বছরের শুরুতে পরিচালিত নিরীক্ষায় এসব অনিয়ম ধরা পড়লেও এর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আইডিআরএ।

এসব অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত আমাদের নজরে আসেনি। সব আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধানের এখতিয়ার দুদকের নেই। তবে যদি অর্থ আত্মসাৎ হয়ে থাকে, তাহলে দুদক অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। বিমা খাতের স্বার্থেই অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের।

তিনি বলেন, আইডিআরএ অভিযোগের বিষয়ে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। আমরাও ব্যাখ্যা দিয়েছি। কিন্তু তারা কখনই আমাদের জানায়নি, জবাব সন্তোষজনক নাকি অসোন্তষজনক। তাদের উচিত শুনানির মাধ্যমে অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ