পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরনে পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হতদরিদ্র, দিনমজুর হয়েও গত ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী প্রাথীর সমর্থক হওয়ার কারণে তাদের বঞ্চিত করে এলাকার চেয়ারম্যান তার নিযস্ব অনেক স্বাবলম্বি ও বিত্তবানদের তালিকাভূক্ত ও কার্ড প্রদান করেছে।এ ছাড়া স্থানীয় ইউপি সদস্য কতৃক তালিকা তৈরীর নিয়ম থাকলে ও চেয়ারম্যান তার নিজেস্ব ব্যক্তিদের দ্বারা এ কার্ডের তালিকা তৈরী করেছে বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার কুসুম্বা ইউনিয়নের ধুরইল (বোডের ঘর) ও শালাইপুর বাজারে দুই ডিলারের চাল বিতরণ কালে এসব তথ্য পাওয়া যায়। সিধুইল বম্বু গ্রামের সাইফুল, লাটপাড়ার রিক্সা চালক ফজলু হক, সিধইলের রিক্সা চালক সিরাজুল, গৃহীনি রেশমা, খামারপাড়ার আনোয়ার, শালাইপুরের আব্দুল আলিম, স্বামী পরিত্যক্তা মনজুয়ারাসহ অনেক হত-দরিদ্র গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, তারা হত-দরিদ্র হলেও তাদের নাম তালিকাভুক্ত না করে এলাকার প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের নামের তালিকা ভুক্ত করে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে খামারপাড়া গ্রামের ৩ তলা বাড়ির মালিক নাছির, একই গ্রামের বিকাশ বর্মন, ভজেন্দ্র, আখতারুজ্জামন, হোসনে আরা, হাফিজার, সাড়ারপাড়া গ্রামের আনোয়ার সহ অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া শালাইপুর এলাকার একই পরিবারের ৭ ব্যক্তির নামেও কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আবার একই ব্যক্তির নামে ২টি কার্ডও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবক জিহাদ মন্ডল বলেন, এই ইউনিয়নের শতকরা ১০ ভাগ কার্ডই গেছে বিত্তবানদের নামে। নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষ হওয়ায় আমার পক্ষের লোক দরিদ্র হলেও তাদের নাম তালিকাভুক্ত করেনি বর্তমান চেয়ারম্যান। জানা গেছে পূর্বের তালিকা সংশোধন করে নতুন তালিকা তৈরী করলেও অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। এছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য জানান, তার এলাকার জন্য মাত্র তাকে ২০ টি কার্ড দেওয়া হয়েছে। বাঁকি তালিকা করেছে চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোক। এ বিষয়ে কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, মেম্বারদের তৈরী করা তালিকায় দু-একটি নাম বিত্তবানদের নাম ঢুকতে পারে, সেজন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আবার লিস্ট সংশোধন করা হবে।