খুরশিদ জামান কাকন : “বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে” প্রচলিত এ প্রবাদটির সাথে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু তখন কেমন হয় যখন বন্যেরা প্রবেশ করে জনবসতি পূর্ন লোকালয়ে। এইতো কিছুদিন আগের কথা ভারত থেকে নদীতে ভেসে আসা একটি হাতীকে ঘিরে উৎসুক জনতার মাতামাতি কম ছিলো না। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস শুধুমাত্র উৎসুক জনতার মনের খোরাকেই মিটে কিন্তু হাতীটি বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সৈয়দপুরে আগমন ঘটেছে কালো মুখ ও লম্বা লেজওয়ালা এক হনুমানের। হনুমানটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিনে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছে। হনুমান দর্শনে আসা অনেকেই হনুমানটিকে খেতে দিচ্ছেন কলা, রুটি, বিস্কুট, আপেল সহ বিভিন্ন ফলমূল। কিন্তু হনুমান মশাইয়ের খাওয়ার কোন নামগন্ধ নেই, যতোক্ষন পর্যন্ত না খাদ্য প্রদানকারী ব্যক্তি নিজে খাচ্ছেন। আবার কেউ ঢিল ছুরলে বা মারার চেষ্টা করলে সে অনেকটা মানুষের মতো করে দুই হাতজোড় করে ক্ষমার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। উৎসুক জনতার ভীরে কোণঠাসা হনুমানটি কোথাও স্থীর থাকতে পারছে না। দিনে দিনে ঠিকমতো খেতে না পেরে হনুমানটির বেশ স্বাস্থ্যহানীও ঘটেছে।
সূত্রমতে, ভারত থেকে দলছুট হয়ে আসা হনুমানটি প্রথমে বড় পুকুরিয়া কয়লাখনির আবাসিক কোয়াটারের ছাদে বিচরন করতে দেখা যায়। পরে হনুমানটি পার্বতীপুরের রামপুরা, জাকেরগঞ্জ, বেনিরহাট, চাকলা বাজার পেরিয়ে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করে। আজ রোববার (৩০ অক্টোবর’১৬) দুপুরে হুনুমানটি সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কের ওয়াপদা সংলগ্ন চৌধুরী বাড়ীর গাছে অবস্থান করছে।
স্থানীয় বাশিন্দা রাসিদুল ইসলাম জানান, হনুমানটি শুধুই মানুষের বিনোদনের খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতো লোকের ভীরে কোণঠাসা হনুমানটি না পারছে কোথাও গিয়ে স্থির হতে অথবা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে। হনুমানটিকে যদি কতৃপক্ষ উদ্ধারের উদ্দ্যেগ গ্রহণ না করে তাহলে যেকোন সময় হনুমানটি গ্রামের লোকদের অসচেতনতা ও অসতর্কতায় মারা পড়তে পারে। অপর এক স্থানীয় বাশিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, দিনের বেলা লোকজনের ভীর থাকায় হনুমানটি কোথাও যেতে পারছে না, ঠিকমতো খেতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে হনুমানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ লোকালয় থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থলে স্থানান্তরের জন্য তিনি জোরালো দাবী জানান।
দল ছুট হওয়া হনুমানটি একটুখানি নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে দিকবেদিক ছুটছে। কিন্তু হনুমানটি যেদিকে গিয়েই হাজির সেদিকেই কৌতূহলী জনতার জটলা। কে জানে হনুমানটি উৎসুক জনতার বিনোদনের খোরাক হতে গিয়ে কখন যে কোথায় কার হাতে মারা পড়ে। তাই হনুমানটি উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বনভূমির দায়ীত্ববান কর্মকর্তার প্রতি জোরালো দাবী রইলো।