• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে বেডরুমে চলছে ডাক বিভাগের কার্যক্রম

সৈয়দপুর ডাকঘরবিশেষ প্রতিনিধি: ১৯৭০ সালে নির্মিত বিল্ডিংয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে সৈয়দপুর উপজেলা ডাকঘরের কর্মচারীরা। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা লাল রংয়ের ডাকবাক্স গুলো পড়ে রয়েছে অযত্ন আর অবহেলায়। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব ডাকবক্স কর্তৃপক্ষ না খোলায় মানুষ আর চিঠিপত্র ফেলে না।
সৈয়দপুর উপজেলা পোষ্ট মাষ্টার মো. শামসুজ্জামান জানালেন, ব্যাক্তিগত চিঠিপত্র এখন নেই বললে চলে, তবে বাণিজ্যিক চিঠিপত্রের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কমে গেছে ডাকটিকেট বিক্রি। ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস) সেবায় এখন গড়ে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা লেনদেন হয়- যা পূর্বে গড়ে প্রতিদিন ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতো। তবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সঞ্চয়ী ব্যাংকিং সেবা। গত সেপ্টেম্বর মাসে এ খাতে সৈয়দপুর ডাকঘরে ৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। ওই মাসে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে ২০ লাখ ৯৯ হাজার, তিন বছর মেয়াদী সঞ্চয় ব্যাংকে ৫৫ লাখ ২২ হাজার টাকা, সাধারণ সঞ্চয়ে (তিন মাস মেয়াদী) ২ কোটি, পরিবার সঞ্চয় পত্রে (তিন মাস মেয়াদী) ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার, পেনসনার সঞ্চয় পত্রে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, ডাক জীবন বীমায় ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এছাড়া এ ডাকঘরে বৈদেশিক পার্সেল আসে প্রতি মাসে ৮-১০টি। যা অন্যান্য জেলা শহরের ডাকঘরের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। ফলে লোয়ার সিলেকশন গ্রেডের এ ডাকঘরটি প্রথম গ্রেডের ডাকঘরে উন্নীত হওয়ার দাবি রাখে।
সৈয়দপুর ডাকঘরতবে সঞ্চয়ী ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত কর্মচারীর (চা-নাস্তার দাবি করে) উৎকোচের বিনিময়ে কাজকর্ম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা তা ভিত্তিহীণ বলে উল্লেখ করলেও সিসি নিউজ’র ক্যামেরায় সে দৃশ্য ধরা পড়েছে।
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থা একেবারে বেহাল। অফিস না থাকায় সৈয়দপুর উপজেলার সোনাখুলী ডাকঘরটি পোষ্ট মাষ্টারের নিজ বাড়ীর শোয়ার ঘরেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এর কার্যক্রম। পিয়ন না থাকায় আর বাড়ীতে ডাকঘরের কার্যক্রম চলায় সকালের চিঠিপত্র বিকেলে অথ্যাৎ সঠিক সময় বিলি হচ্ছেনা চিঠিপত্র- এমনটি জানালেন ওই ডাকঘরের রানার জমসেদ আলী। তিনি বলেন, পোষ্ট মাষ্টার পল্লী চিকিৎসক সামসুদ্দিন বাড়ীর এই কক্ষটিতে রোগী দেখেন নিয়মিত। তাই লোকজন বলেন পোষ্ট অফিসটা কোথায়? তিনি জানালেন, উর্ধতণ কর্তৃপক্ষ পোষ্ট অফিসের জন্য জমি দেখতে বলেছেন, তাই বাড়ীর পাশেই একটা জমি দেখে রেখেছি। উল্লেখ্য যে, তিন যুগ ধরে বাড়ীর কক্ষেই চলছে ডাকঘরের এ কার্যক্রম। ফলে স্থানীয় লোকজন এর সঠিক সেবা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।

সৈয়দপুর ডাকঘরহারিয়ে যাচ্ছে চিঠি
ইন্টারনেট, ইমেইল আর ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে বন্দি হয়ে আছে একসময়ের জনপ্রিয় যোগাযোগ-মাধ্যম চিঠি, ডাকপিয়ন, ডাকবাক্স ও ডাকঘর। প্রিয়জনের খবর জানতে এখন আর কারও ডাকপিয়নের অপেক্ষায় থাকতে হয় না। মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণে চিঠি যেন পুরনো ফ্যাশন। ঠিকানা মানেই ই-মেইল ঠিকানা। এই সেদিন, ২০০৪ সালেও দেশে ২৩ কোটি চিঠি লেনদেন হয়েছে। পুরনো দিনের চিঠি আজও প্রবীণ ও মধ্যবয়সীদের জীবন অধ্যায়ের পাতা হয়ে আছে। ডাকটিকিটের মাধ্যমে সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পোস্ট অফিসের (ডাকঘর) পালা শুরু হয় ১৮৪০ সালে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এ ব্যবস্থা। খাম, পোস্টকার্ড, ডাকটিকিট, মানি অর্ডার মিলিয়েই ছিল প্রথম দিককার ডাক বিভাগ। পরবর্তী সময়ে ডাক বিভাগে যুক্ত হয় সরকারের নানা পরিসেবা। নানা অনিশ্চয়তায় এখন সরকারি কাজের চিঠিও অনেক সময় বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো হচ্ছে। দিন দিন ব্যক্তিগত চিঠি হারিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী সারা দেশে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সাধারণ চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে ৫ কোটি আর ২০১৪-১৫ সালে হয়েছে ৪ কোটি। আর রেজিস্টার চিঠির আদান-প্রদান হয়েছে প্রায় ৭ কোটি। কাজেই বোঝা যাচ্ছে প্রতিবছর ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার ক্রমেই কমছে।

screenshot_3বিভিন্ন সার্ভিসেও পিছিয়ে
সেবার মান দুর্বল হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক মানি অর্ডার নেমে এসেছে অর্ধেকে। অভ্যন্তরীণ মানি অর্ডারের প্রতিযোগিতাতেও টিকতে পারছে না ডাক বিভাগ। ২০১০-১১ অর্থবছরে যেখানে অভ্যন্তরীণ মানি অর্ডার ইস্যু হয়েছে ১৫ লাখ সেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইস্যু হয়েছে মাত্র তিন লাখ। আন্তর্জাতিক মানি অর্ডারের প্রায় ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক। ২০১০-১১ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক মানি অর্ডার ট্রানসেকশন হয়েছে ১ হাজার ১৫৯টি সেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক মানি অর্ডার ট্রানসেকশন হয়েছে মাত্র ২৫২টি। পার্সেল কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। স্ট্যাম্প বিক্রির অবস্থাও বেহাল। ইএমটিএস ও পোস্টাল কার্ড বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও নানা কারণে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচার-প্রচারণার অভাবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক বাড়ানো যাচ্ছে না। ডাকঘরের অন্যান্য সেবা কার্যক্রমের মধ্যে ই-ব্যাংকিং, জীবন বিমা, সাধারণ বিমাসহ সরকারি চিঠিপত্র, পার্সেল ইত্যাদি নানামুখী সুবিধা ও কার্যক্রম চালু আছে। তবে ডাক বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে ই-ব্যাংকিং সেবাটিই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। বর্তমানে বিভিন্ন পোস্ট অফিসে সাম্প্রতিক যে ব্যস্ততা দেখা যায় সেটা মূলত ই-ব্যাংকিং ও ইলেকট্রনিক মানি ট্রন্সফারের কারনে।

সৈয়দপুর ডাকঘরডাকঘর যেন ভূতের বাড়ি
ডাক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মোট পোস্ট অফিসের সংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৬টি। সব মিলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ১৭ হাজার। আর ভাতাপ্রাপ্ত লোকবলের সংখ্যা ২৪ হাজারের বেশি। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারের জন্য বড় ধরনের বরাদ্দ না হওয়ার কারণে বর্তমানে বেশিরভাগ ডাকঘরের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পোস্ট অফিস দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটা অফিস না ভূতের বাড়ি। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও জনবলের অভাবে ভাঙা চেয়ার, টেবিল, কাঠের বাক্স আর খোলামেলা আলমিরায় কোনোমতে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি আসবাবপত্রের বরাদ্দ হলেও তা উপজেলা ও শাখা পর্যায়ের ডাকঘরগুলোতে এসে পৌঁছায় না। ফলে আসবাবপত্রের অভাব দীর্ঘদিন লেগে থাকে। প্রয়োজনীয় আলমিরা না থাকায় অফিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ফেলে রাখা হচ্ছে অরক্ষিত অবস্থায়।

সৈয়দপুর ডাকঘরতবু চিঠি থাক
ইন্টারনেট ই-মেইলের এ যুগে হাতে লেখা চিঠির প্রচলন নেই বললেই চলে। পত্র-মিতালির মতো মধুর বিষয়টি এখন অতীত দিনের স্মৃতি। এমন একটা সময় ছিল যখন পত্রমিতালির মাধ্যমে সমমনা মানুষ কিংবা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সম্পর্কের ভিত রচিত হতো। চিঠির ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতো নানা রকম সামাজিক সম্পর্ক। চিঠির মাধ্যমে অনুভব করা যেত মানুষের হৃদয়ে উত্তাপ, প্রীতি, ভালোবাসা, অনুরাগ কিংবা বিরাগের বিষয়টি। পত্রসাহিত্য আমাদের বাংলা সাহিত্যে একটি মর্যাদার স্থান নিয়ে আজও অম্লান। সে কারণেই বিভিন্ন মহল এক সুরে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, চিঠি আদান প্রদানের ব্যবস্থাটা যেন ডাক বিভাগ থেকে উঠে না যায়। হোক, ই-মেইল-ইন্টারনেটের যুগ, তবু চিঠি থাক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ