আবু ফাত্তাহ্ কামাল পাখি, ডোমার: আমি আবার স্কুলে ফিরতে চাই, বাচঁতে চাই, বন্ধুদের সাথে খেলতে চাই, কিন্তু আমি কী পারব আবার স্কুলে ফিরতে? অনেকের কাছে শুনেছি ক্যান্সার হলে নাকি মানুষ বাঁচে না। তাহলে আমিও কি বাঁচবো না। এমন মর্মস্পশী ভাষাতে সবার কাছে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার কলেজ পাড়ার বারো বছরের শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত লিজা।
ডোমার পৌরসভার চিকনমাটি বালিকা বিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী লিজা গত এক মাস ধরে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। তার হতদরিদ্র পিতা ফুটপাতে ফলবিক্রেতা মো: রাজু বলছেন, আমাদের টানাটানির সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, মেয়েটাকে বাচাবো কি করে? আমার সারা জীবনের সঞ্চয় যা কিছু ছিল সবই মেয়ের চিকিৎসায় খরচ করে ফেলেছি। গরীব আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার করেছি, সাহায্য নিয়েছি। এখন আমার রক্ত, কিডনী চোখ বেঁচে দিয়ে হলেও যদি আমার কলিজার টুকরা মেয়েকে বাঁচাতে পারতাম! সে সেষ্টাও করেছি। কিন্তু সম্ভব হয়নি। তাহলে কি টাকার অভাবে আমার ছোট্ট মেয়েটিকে বাচাতে পারবো না!
পিতা রাজু আরো বলেন, পায়ে ব্যথা নিযে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে গত মাসের ৫ই অক্টোবর নিশ্চিত হই ক্যান্সার হয়েছে। এরপর ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারি,তার বাম পায়ে ক্যান্সার আক্রমন করায় পায়ের হাড়, শিরা, উপশিরা, মাংস ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে সে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জাহান আফরোজা লাকীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ মাসে ৬ই অক্টোবরে প্রথম থেরাপিসহ প্রায় ৬২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরো বিভিন্ন পরীক্ষা করে এক বছরে প্রায় বারোটি থেরাপি দিতে হবে। প্রতিটি থেরাপিতে ১০ থেকে ২০ হাজার খরচ হতে পারে। এখনই প্রয়োজন আরও লক্ষাধিক টাকা। যা সংকুলান করা তার দ্ররিদ্র পিতার পক্ষে অসম্ভব। শিশু লিজা আক্তারকে বাঁচাতে তাই হ্দয়বান মানুষের কাছে সাহায্য কামনা করেছে তার অসহায় পরিবার। শিশু লিজা আক্তারের জন্য সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর-০১৭৭০৬৭৫০৫৩।