শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর: চাঁদপুরে জীবিকার তাগিদে অবাধে টমটম ও অটোরিক্সা চালাচ্ছে অদক্ষ শিশু-কিশোরেরা। ফলে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা ও বাড়ছে প্রানহানীর সংখ্যাও। গত কয়েকমাসে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ ড্রাইভারের হাতে বিভিন্ন সড়কে ওইসব যানবাহন দূর্ঘটনায় নিহতসহ প্রায় শতাধিক আহত হয়েছে বলে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।
তবে সব সড়ক দুর্ঘটনার দায় একবারে চালকের নয়। নানা কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে, বেহাল সড়ক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো, চালকের অসতর্কতা বা গাফিলতি, ফাঁকা সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, সাইড না পেয়েও ওভারটেক করার চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় ও বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো ইত্যাদি। গাড়ির অদক্ষ চালক নিয়ে এ পর্যন্ত বহু কথা হয়েছে। কিন্তু অদক্ষ গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমনটা কখনো দেখা যায়নি। এ রকম চলতে থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়তে থাকবে এমনটাই মনে করেন সচেতন মহল।
এদিকে চালকের আসনে কে বসে আছে, এটা আমরা বেশির ভাগ সময় খেয়ালই করি না। আমরা নিশ্চিন্তে আমাদের জীবন অদক্ষ চালকদের হাতে সপে দিচ্ছি। আর দুর্ঘটনা ঘটলে নিয়তির লিখন বলে সান্তনা খুঁজি। যারা সড়কে টমটম ও অটোরিক্সা চালায় কোনোরকম অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারনে ঘটে দুর্ঘটনা। তাদের গাড়ি চালানোর স্টাইলই ভয়ঙ্কর।
যাত্রী সাধারণ জানায়, কমবয়সী আনাড়ি ও অদক্ষ চালকদের কারণেই ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব শিশুদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। চালক হিসেবে যেমন নূনতম দক্ষতা নেই, তেমনি ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। যাত্রীবহন করার শক্তিও নেই তাদের। এদের অটোরিকক্সায় উঠতে ভয় করে। কিন্তু দিন দিন তাদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আমাদের নিরুপায় হয়ে তাদের যানবাহনে উঠতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। অথচ মাত্র সাড়ে ১২শ অটোরিক্সাকে লাইসেন্স দিয়েছে চাঁদপুর পৌরসভা। বৈধ-অবৈধ অটোরিক্সার কারণেই শহরে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট এখন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় যানজট এড়াতে প্রশাসন অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিক্সা চলাচলে শহরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও, কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না অনুপ্রবেশ। এক্ষেত্রে বেশ চতুর অটোরিক্সা চালকরাও। একটি অটোরিকশার লাইসেন্স দিয়ে কোনো কোনো মালিক চার থেকে পাঁচটি অটোরিকক্সা শহরে চালাচ্ছেন। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। অবৈধ অটোরিক্সা চলাচলের জন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি শহরের সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাদেরও দায়ী করেন সচেতন মহল।