চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উপজেলা নবান্ন উৎসব ১৪২৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন উপজেলা প্রশাসন।
নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা চত্তর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা চত্তরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন জেলি, কৃষি অফিসার মোঃ খালেদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী প্রকৈশলী মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিকালে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার । এসময় ফ্রেন্ডশীপ চিলমারীসহ বিভিন্ন দপ্তর লোকজন এবং বিভিন্ন এলাকার কৃষকগন উপস্থিত ছিলেন।
রোগে আক্রান্ত চিলমারীর আমন ক্ষেত: কৃষক দিশেহারা
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমন ক্ষেতে পাতা মোড়ানোসহ বিভিন্ন রোগের সাথে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমন। দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ধানের পাতাপোড়া, পাতা হলুদ, গোড়াপঁচা ও কিছু কিছু জায়গায় পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। এসব দমনে সার, কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেননা বলে অনেকের অভিযোগ। তারা আরো অভিযোগ করেন পরামর্শ চাওয়া হলেও সঠিক সময় পাওয়া যাচ্ছে না কৃষি বিভাগের লোকজনদের।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সব এলাকায়ই ব্যাপকভাবে মাজরা ও ঘাসফড়িংয়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। সাথে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগ বালাই। ফলন ভালো হলেও বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দেখা দিয়েছে রোগসহ পোকার আক্রমণ। দুই-তিন দিনের মধ্যেই ক্ষেতের সব ধান নষ্ট হয়ে মাটিতে নুয়ে পড়ছে। কোনো কোনো এলাকার কৃষক ক্ষেত থেকে এক মুঠো ধানও ওঠাতে পারছেন না। উপজেলার বালাবাড়ি হাট এলাকার কৃষক বাবার আলী জানান প্রথম অবস্থায় ক্ষেতে অবস্থা খুব ভালো ছিল মনটাও বেশ আনন্দ ছিল কিন্তু গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে পাতা মোড়ানোসহ ধানগাছ বসে যাচ্ছে অনেক ঔষধ আর সার দিয়েও কোন ফল হয় নাই। পরামর্শ নেয়ার জন্য বিএস (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) কে বলেছিলাম কিন্তু একবারের জন্য আসে নাই কোন পরামর্শও দেয় নাই। এসময় তিনি সহ আরও কয়েকজন কৃষক জানান কৃষি বিভাগের লোকজন তাদের এলাকায় সঠিক সময় না আসার কারনে সময় মতো পরামর্শের অভাবে তারা ক্ষেতের ঠিকমত পরিচর্যা করতে না পারায় তাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে। গাবের তলের চাষি শফিকুল জানান, তিনি ১৮ কাঠা আমন ক্ষেত করেছেন। তার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু যেভাবে পোকায় খেয়েছে, আর রোগে আক্রান্ত হয়েছে মনে হয় ১ হাজার টাকার ধানও উঠাতে পারবো না। একই এলাকার কৃষক আউয়ুব আলী ৮ কাঠা আমন করেছিল, তাও পোকায় আর রোগে খেয়ে ফেলছে। ক্ষেতে কাচি লাগানোর যো নেই। কৃষি বিভাগের লোকজনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অশিকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান বলেন পোকা কিংবা রোগে আক্রান্ত ক্ষেতের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি সকল বিষয় ক্ষতিয়ে দেখবো।