• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দুই বান্ধবী আত্মহত্যায় মামলা, গ্রেফতার ১

image-6673রাজশাহী: মহানগরীর উপকণ্ঠ শাহাপুর এলাকায় দুই বান্ধবীর একসাথে আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। নগরীর মতিহার থানায় বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলা দুটি হয়।

এদিকে মামলা করার আগেই দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। মামলার এজাহারে বিপ্লবের নাম থাকায় তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহাপুর গ্রামের মুক্তার আলীর মেয়ে উম্মে মারিয়া সম্পা (১৪) ও নজরুল ইসলামের মেয়ে তামিমা খাতুন বর্না (১৩) গলায় ফাঁস দিয়ে একসাথে আত্মহত্যা করে। তারা একই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। মৃত্যুর আগে তারা দুটি ‘সুইসাইড নোট’ লিখে রেখে যায়। সম্পার সুইসাইড নোটে বিপ্লব হোসেন (২৩) নামে এক যুবকের নাম লেখা আছে। সম্পার হাতে কলম দিয়েও ওই যুবকের নাম লেখা ছিল। এই বিপ্লবকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিপ্লব শাহাপুর পশ্চিমপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে অর্থনীতিতে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি সম্পার স্কুলের সামনের একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করেন।

বর্নার সুইসাইড নোটেও মুন্না (১৮) নামে অপর এক যুবকের নাম লেখা ছিল। মুন্নাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এলাকাবাসী ও পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকেই মুন্না পলাতক।

সুইসাইড নোটে কী লেখা আছে তা পুলিশ প্রকাশ না করলেও সম্পার পরিবারের দাবি, বিপ্লব হোসেনের সাথে সম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সে অন্য এক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে সম্পা তার মৃত্যুর জন্য বিপ্লবকে দায়ী করে সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করে।

আর বর্নার পরিবারের দাবি, বেলঘরিয়া এলাকার আবদুল কাদেরের বখাটে ছেলে মুন্না বর্নাকে উত্ত্যক্ত করত। বখাটে অন্য বন্ধুদের সাথে নিয়ে পথ আটকিয়ে বর্নাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। কখনও কখনও বাড়িতে গিয়েও হাজির হতো। এসব কারণে বর্না অতিষ্ঠ ছিল। আর এ কারণে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই বান্ধবী একসাথে আত্মহত্যা করেছে।

মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, দুই কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী হয়েছেন সম্পার মা শরিফা বেগম। আরেক মামলার বাদী বর্নার বাবা নজরুল ইসলাম।

ওসি জানান, দুই মামলায় আলাদা আলাদা করে মুন্না ও বিপ্লবকে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুন্নাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নগরীর মতিহার থানার এসআই আকতার হোসেন জানান, সুইসাইড নোটে নিজের নাম থাকায় হৈচৈ শুরু হওয়ায় বিপ্লব তার আত্মীয়-স্বজনকে সাথে নিয়ে দুপুরে থানায় আসে। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে তাকে তখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে বিকেলে তার নামে মামলা হলে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ