খেলাধুলা ডেস্ক: বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিনে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে ৭ উইকেটে বড়ো জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। ৭ উইকেট হাতে রেখে ১৯ ওভারেই জয়ের লক্ষে পৌঁছে যায় তারা।
এই জয়ে ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে মোহাম্মদ মিঠুনের ৪১ বলে অপরাজিত ৪৯ রান। এ ছাড়া মোহাম্মদ শেহজাদ করেন ৩৮ বলে ৩৭ রান এবং শহীদ আফ্রিদি করেন ২০ বলে ২৬ রান।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয় দুপুর ১টায়। প্রথমে ব্যাট হাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে খুলনা টাইটান্স সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ১২৫ রান।
দলীয় ৩৮ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারিয়েছিল খুলনা। চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে ৯৪ রানের মাথায়। রংপুরকে ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার রুবেল হোসেন। একই ওভারে তাইবুর রহমানকে ফেরান রুবেল।
খুলনার হয়ে ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করতে নামেন আন্দ্রে ফ্লেচার এবং আবদুল মজিদ। খুলনার ওপেনার আবদুল মজিদকে সাজঘরে পাঠান রংপুরের স্পিনার আরাফাত সানি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে আরাফাত সানির বলে বোল্ড হন ১৩ বলে ১০ রান করা মজিদ। দলীয় ১৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় খুলনা।
পঞ্চম ওভারে আবারো আক্রমণে আসেন সানি। চতুর্থ বলে আরেক ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারকে এলবির ফাঁদে ফেলেন এই টাইগার স্পিনার। ৮ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন প্লেচার। দলীয় ২০ রানের মাথায় দুই উইকেট হারায় খুলনা।
ইনিংসের অষ্টম ওভারের প্রথম বলে খুলনার দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে ফিরিয়ে দেন আফ্রিদি। আনোয়ার আলীর তালুবন্দি হওয়ার আগে রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। দলীয় ৩৮ রানে খুলনার তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে। রিয়াদের বিদায়ের পর জুটি গড়েন তাইবুর রহমান এবং রিকি ওয়েসেলস। এ জুটি থেকে আসে আরও ৫৬ রান।
ইনিংসের ১৭তম ওভারে এসে টাইগার পেসার রুবেলন হোসেন রংপুরকে ব্রেক থ্রু এনে দেন। রিকির বিদায়ে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে ৯৪ রানের মাথায়। একই ওভারে তাইবুরকেও ফিরিয়ে দেন রুবেল। রিকি রংপুর দলপতি নাঈম ইসলামের তালুবন্দি হওয়ার আগে করেন ৩৩ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ২৭ রান। আর মোহাম্মদ শাহজাদের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে তাইবুর ৩৭ বলে তিনটি চার আর একটি ছক্কায় ৩২ রান।
শেষ ওভারের প্রথম বলে বেনি হাওয়েলকে বোল্ড করেন আফ্রিদি। শেষ ওভারে আফ্রিদিকে দুটি ছক্কা হাঁকানো আরিফুল হক ১৩ বলে ২২ রান করে শেষ বলে রানআউট হন। অলোক কাপালির ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৩ রান।
দুই দলের প্রথম সাক্ষাতে ৪৪ রানে খুলনাকে গুটিয়ে দিয়ে বড় জয় পেয়েছিল রংপুর। তাই এ ম্যাচে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া খুলনা। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও মাত্র একটি হারে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। শেষ ম্যাচে তারা শাক্তিশালী ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে সবার ওপরে জায়গা করে নেয়।
অন্যদিকে ভালো অবস্থানে আছে রংপুরও। পাঁচ ম্যাচে চার জয় ও এক হারে তৃতীয় অবস্থানে মোহাম্মদ শাহজাদ-সৌম্য সরকার-শহীদ আফ্রিদিদের নিয়ে গড়া দলটি। আর এ ম্যাচে জয় পেলে খুলনাকে হটিয়ে শীর্ষে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে রংপুরের সামনে।