রংপুর: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যটালিয়ানের (র্যাব) মাধ্যমে রংপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তিন ‘জঙ্গি’। বুধবার দুপুরে রংপুর শীতল অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে ৫ লাখ টাকার করে চেক প্রদান করা হয়।
দুপুরে জঙ্গিবাদ বিরোধী সুধী সমাবেশ এবং জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাব-১৩। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
র্যাব-১৩ অধিনায়ক এটিএম আতিকুল্লাহর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন এলজিআরইডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু. টিপু মুনসী এমপি, র্যাবের পরিচালক বেনজির আহমেদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ, ডিআইজি খন্দকার ফারুক আহমেদ, বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শোলাকিয়ার ঈদের নামাজে হামলাসহ বিভিন্ন হামলার সাথে জড়িত উগ্রবাদি জঙ্গি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের লোহার ধান এলাকার মমদেল হোসেনের পুত্র হাফেজ মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ (১৭), একই উপজেলার বিন্যাগাড়ি এলাকার জিল্লুর রহমারে পুত্র হাফিজুর রহমান (১৫) এবং জয়রামপুরের সারোয়ার হোসেনের পুত্র আখতারুজ্জামান (১৮) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
এ সময় র্যাবের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসনের জন্য ৫ লাখ করে টাকার চেক হস্তান্তর করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আত্মসমর্পণ করে উগ্রবাদী জঙ্গি মাসুদ রানা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা ভুল পথে ছিলাম। আমাদের মগজ ধোলাই করার কারণে আমরা বিভিন্ন হামলার সাথে জড়িয়েছিলাম। পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে র্যাবের সাথে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করেছি। এখন আমরা ভালোভাবে জীবন গড়তে চাই।”
অনুষ্ঠানে উগ্রবাদি জঙ্গি আখতারুজ্জামানের পিতা সারোয়ার হোসেন জানান, প্রথমে আমরা বুঝতে পারি নি। যখন বুঝলাম আমার ছেলে ভুল পথে গেছে। তখন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়ে র্যাবের সাথে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের করিয়েছি। তিনি বলেন, অভিভাবকদের অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে।
র্যাব জানায়, হাফেজ মাসুদ রানা ঘোড়াঘাটের রামেশ্বর দারুল হুদা ফাজিল মাদরাসার ৯ম শ্রেণি, হাফিজুর রহমান কলাবাড়ি দাখিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণি এবং আখতারুজ্জামান নারায়ণপুর মিজবাহুল উলুম কওমী ও হাফেজিয়া মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্র।
এরা তিনজনই আগে স্থানীয় নুরপুর সালাফিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন করতো। ২০১৫ সালে এরা তিনজনই উগ্রবাদি আরিফুলের তত্বাবধায়েন জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেয়। এক্ষেত্রে তারা ইন্টারনেটকেও ব্যবহার করে।
র্যাব জানায়, আরিফুলের পরিকল্পনায় মাসুদ প্রথমে এলাকায় শিবির নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরে ঘোড়াঘাটের গুড়হাটিতে একটি ছাত্রাবাসে আরিফুল তাদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়। সেখানে আরো অনেক জঙ্গি ছিল।
র্যাব আরো জানায়, এরা তিনজনই শোলাকিয়া ঈদ জামায়াতে, রানিগঞ্জ একটি খাবার হোটেলে উড়োচিঠি দেয়া, দিনাজপুরে মাজারে বোমা হামালা, স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এবং শিয়া মসজিদে হামলার সাথে জড়িত।