দিনাজপুর প্রতিনিধি: মেয়ে হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দিনাজপুর সদর উপজেলার দাইনুর কালাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত-আমিনুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ মাহবুবা খাতুন। বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে মোছাঃ মাহবুবা খাতুন বলেন, গত দুই বছর পূর্বে পাশের বাড়ীর মো. মতিয়ার রহমান হাবলার পুত্র মো. জোবাইদুর রহমান ওরফে সুমন’র সাথে আমার মেয়ে আফছানা বেগমের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। গত আট মাস পূর্বে তাদের সংসারে আকাশ নামে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।
বিয়ের কিছু দিন তাদের সংসার ভাল কাটলেও আমার মেয়ের জামাই মো. জোবাইদুর রহমান ওরফে সুমন তার পিতা-মো. মতিয়ার রহমান হাবলা ও মাতা মোছাঃ আফরোজা বেগমের প্ররোচনায় মেয়ের নিকট যৌতুক বাবদ এক লক্ষ টাকা দাবী করে তার উপর চাপ সৃষ্টি করে। আমার মেয়ে তার গরিব পিতার পক্ষে এক লক্ষ টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ের উপর শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে। তথাপিও আমার মেয়ে তার শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, এ অবস্থা চলার এক পর্যায়ে গত ২৯-১০-২০১৬ ইং তারিখ শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় আমার মেয়ে উপর নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে আমি ও ছেলে মাসুদকে (১৬) নিয়ে বাড়ীর পাশে অবস্থিত মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে গেলে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য গালিগালাজ করতে দেখতে পাই। এ সময় আমি তাদের অন্যায় কর্মকান্ডের মৌখিক প্রতিবাদ করলে তারা জানায়, দাবীকৃত যৌতুকের টাকা না দিলে মেয়েকে জীবনে শেষ করে দিবে। আমি তখন আমার অক্ষমতার কথা জানিয়ে মেয়ের উপর অত্যাচার না করে ভালভাবে সংসার করার অনুরোধ জানিয়ে ছেলেকে নিয়ে বাড়ীতে চলে আসি।
ওই দিন রাতের কোন এক সময় মেয়ের জামাই মো. জোবাইদুর রহমান ওরফে সুমন, তার পিতা-মাতার পরষ্পরের যোগসাজশে ও সহায়তায় এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহযোগিতায় যৌতুকের উক্ত টাকা আদায়ের দাবীতে আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন ও মারপিট করে তাকে মেরে ফেলে। তারা ওই ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে এবং নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য আমার মেয়ের গলায় ওড়না পেছিয়ে ঘরের সিলিংয়ের বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে রাখে এবং আমার মেয়ে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রচার করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খবর পেয়ে পরের দিন ৩০-১০-২০১৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬টায় আমি ও আমার ছেলে মাসুদ ও প্রতিবেশী মো. লতিফুর রহমান, মো. আলাউদ্দিন, মো. বাবুল হোসের, মো. আব্বাস আলীকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে শোবার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে ঘটনা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। লাশের সুরতহাল তৈরীর সময় মেয়ের মাথা, নাকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহœ দেখতে পেয়েছেন বলে দাবী করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ঘটনার পর আমরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গরিমসি করে। পরে গত ১৮-১১-২০১৬ তারিখ দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের নিকট গেলে তিনি মামলার আর্জিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এই নির্দেশের পর অধ্যাবধি থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ করেননি। তাই সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মেয়ের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণের দাবী জানিয়েছেন মাহবুবা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত আফছানা বেগমের দাদা মো. ধিরাজ উদ্দিন, চাচা মো. আলাউদ্দিন, মো. লতিফুর রহমান, মামা মো. মোতাহার আলী, প্রতিবেশী মো. সৈদুর রহমান, আলহাজ্ব মো. আব্দুস সাত্তার, মো. আব্বাস আলী, মো. আব্দুল জব্বার, মো. ফজলুর রহমান, মো. খবির উদ্দিন, মো. মাইনুদ্দিন, মো. রহমত আলী, মো. আকবর আলী, মো. নওশাদ আলী, মো. মহসিণ আলী, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. মঞ্জরুল ইসলামসহ অন্যন্য আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।