ঢাকা: রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে আজ রোববার অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে প্রায় ৫০০ ঘর ও দোকানপাট। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে বস্তির সহস্রাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
রোববার বেলা পৌনে ৩টার দিকে কড়াইল বস্তির বউ বাজার সংলগ্ন একটি লেপ-তোশকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তিতে। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা জেলা সহকারী পরিচালক মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, একটি লেপ-তোশকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো জানা যায়নি। তবে পাঁচশ’র মতো ঘর পুড়ে গেছে। এর মধ্যে অর্ধ শতাধিক দোকান রয়েছে। আগুনের ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি। একজন আহত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বিকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বিকেল পৌনে তিনটার দিকে ধোঁয়া দেখে এক নারী আগুন আগুন বলে চিৎকার করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন বস্তির কয়েকটি ঘরে ছড়িয়ে পরে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে প্রথমে সাতটি ইউনিট আগুণ নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে আরো সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল ৪টার দিকে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, বিকেল ৪টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় প্রায় পাঁচশ’র মতো ঘর পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বারিধারা, কুর্মিটোলা, মোহাম্মদপুর ও ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতর ফুলবাড়িয়া থেকে ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলশান গুদারাঘাট থেকে ১৩টি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি এনে আগুন নেভানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাখালীতে অবস্থিত টিঅ্যান্ডটি কলোনির পাশেই কড়াইল বস্তি। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো গাড়ি প্রবেশ করার সুযোগ নেই। ১৪টি ইউনিট পাইপ টেনে আগুণ নিয়ন্ত্রনের কাজ শুরু করে। আগুনের লেলিহান শিখা এতই তীব্র ছিল যে, তা পুরো বস্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বস্তির বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বের হয়। তারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন।
সুমি নামে এক নারী বলেন, সকালে স্মার্টকার্ড আনার জন্য বনানী যান। সেখান থেকে খবর পান ঘরে আগুন লেগছে। ছুটে এসে দেখেন তার সব পুড়ে গেছে। ওই বস্তিতে তার ১০টি ঘর ছিল বলে জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এই বস্তিতে প্রায়ই আগুনের ঘটনা ঘটছে। তবে এখানে আল্লাহর রহমত আছে। বস্তির এত জনসংখ্যা ও ঘনবসতি থাকা সত্ত্বেও তেমন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। এখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সবধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
তিনি বলেন, আগুন রাতে লাগলে আরো ভয়াবহ হতে পারতো। এখন ৪/৫শ’র মতো ঘর ও দোকানপাট পুড়েছে। রাতে হলে ৩ থেকে ৪ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যেতো। এখন প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার বস্তির বাসিন্দা গৃহহীন হয়েছে।
মেয়র বলেন, আগুনে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাদের তালিকা করে খাওয়া-দাওয়া ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে। এছাড়া স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যও ক্ষতিগ্রস্থ বস্তিবাসীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমান মফিজ জানান, অগ্নিকাণ্ডে পাঁচশ’র বেশি ঘর পুড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে সহস্রাধিক মানুষ। বস্তি এলাকার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়দের কাছে শুনেছেন তিনি।
তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
নয়াদিগন্ত