• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৌদিতে ভালোবাসায় সিক্ত বাংলাদেশের করিম

করিমসিসি ডেস্ক: ‘মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য’। তারই এক বাস্তব ছবি হয়ে উঠেছেন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক আবদুল করিম। তাকে নিয়ে সামাজিক মিডিয়ায় যখন হাসি-তামাশা, ভৎসনা, ঠিক তখনই সৌদি আরবের মানবীয় গুণসম্পন্ন কিছু মানুষ এগিয়ে এলেন। তার পাশে দাঁড়ালেন। তাকে উপহারে উপহারে ভরিয়ে তুললেন। রিয়াদে মানুষের এমন ভালবাসায় সিক্ত হচ্ছেন বাংলাদেশি নজর আল ইসলাম আবদুল করিম (৬৫)। তিনি একজন পরিচ্ছন্নকর্মী। সৌদি আরবে এ চাকরি করে মাসে পান মাত্র ৭০০ রিয়াল। একবার একটি স্বর্ণের দোকানে পরিষ্কার করার সময় তিনি আক্ষেপভরা চোখে তাকিয়েছিলেন অলঙ্কারের দিকে। কেউ একজন সেই ছবি ক্যামেরায় ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। তাকে হেয় করে ক্যাপশনে লেখা হয়- ময়লা আবর্জনার দিকে তাকিয়ে থাকাই মানায় এই লোকের। ইনস্টাগ্রামে এই ছবি পোস্ট করার পর ব্যাপক সামাজিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। আবদুল করিমের অসহায়ত্ব নিয়ে এমন তিরস্কার ভাল লাগেনি একজনের। তিনি সৌদি আরবের নাগরিক নাম কাহতানি। এগিয়ে আসেন তিনি। আবদুল করিমকে নিয়ে তিনি সামাজিক মিডিয়ায় দেন পাল্টা পোস্ট। জানতে চান তার অবস্থান। এতে ব্যাপক সাড়া পড়ে। শুরু হয় উপহারের পালা। মানবিকতা আছে এমন মানুষরা এগিয়ে আসেন। তারা ভালবাসা আর উপহারে ডুবিয়ে দিতে থাকেন আবদুল করিমকে। কেউ দেন চাল। কেউ দেন মধু। কেউ বাংলাদেশে বেড়াতে আসার জন্য বিমান টিকিট। উপহার হিসেবে আবদুল করিম আরও পেয়েছেন দুটি মোবাইল ফোন। এর একটি আইফোন-৭। অন্যটি স্যামসাং গ্যালাক্সি। আরও উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অনেকে। বাংলাদেশের আবদুল করিমের এ কাহিনী এখন বিশ্ব মিডিয়ার শিরোনাম। এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে সিএনএন, অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নকর্মী আবদুল করিম কাজ করেন সৌদি আরবের রিয়াদে। ইনস্টাগ্রামে তার ছবি নিয়ে যখন সবাই মজা করছিল, ভর্ৎসনা দিচ্ছিল তখন এগিয়ে আছেন আবদুল্লাহ আল কাহতানি নামে সৌদি আরবের এক নাগরিক। তার রয়েছে ‘ইনসানিয়েত’ বা মানবতা নিয়ে একটি টুইটার একাউন্ট। সেখানে তিনি আবদুল করিমকে সহায়তা করার আহ্বান জানান মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষদের কাছে। তার টুইট শেয়ার হয় সাড়ে ৬ হাজারের বেশি বার। তিনি ওই টুইটে আবদুল করিমকে খুঁজে দিতেও আহ্বান জানান। তাকে কোথায় পাওয়া যাবে, তার ঠিকানা কি- এসব জানতে চান তিনি। অবশেষে সত্যি সত্যি খুঁজে পাওয়া যায় সেই আবদুল করিমকে। তারপরই শুরু হয় উপহারের ঢল। এখন পর্যন্ত তাকে যেসব উপহার দেয়া হয়েছে তার বর্ণনা তো উপরে দেয়াই হয়েছে। এর বাইরেও সৌদি আরবের আরো অনেক নাগরিক তাকে উপহার দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন টুইটারে। তার মধ্যে একজন টুইটার ব্যবহারকারী তাকে ২০০০ রিয়াল দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সৌদি আরবের একটি স্পোর্টসবিষয়ক চ্যানেলের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল করিমকে দিয়েছেন স্বর্ণের সেট। আবদুল করিম স্বর্ণের সেট পছন্দ করে তা ধরে রেখেছেন এমন ভিডিও ওই নির্বাহী কর্মকর্তা পোস্ট করেছেন স্ন্ন্যাপচ্যাটে। এমন সাড়া পেয়ে আবদুল করিম যেমন অভিভূত তেমনি আবেগে আপ্লুত আল কাহতানি। তিনি সিএনএনকে বলেছেন, ওই পরিচ্ছন্নকর্মীকে খুঁজে পেয়ে তিনি গর্বিত। যারা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আবদুল করিমকে উপহার দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। ওদিকে এমন উপহার পেয়ে যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন আবদুল করিম। তিনি সিএনএনকে বলেছেন, কে কোন সময় তার ওই ছবি তুলে তা ইনস্টাগ্রামে দিয়েছেন তা তিনি জানেন না। তার ভাষায়, আমি তো মিউনিসিপ্যালিটির অধীনে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এক সময় ওই স্বর্ণের দোকানের সামনে যেতে হয়েছে দায়িত্ব পালন করতে। এখন আমাকে যে উপহার দেয়া হয়েছে তাতে আমি ভীষণ খুশি। যারা উপহার দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ