আতিউর রাব্বী তিয়াস, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কৃষকরা মুলা উৎপাদন করে দাম পাচ্ছেনা। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতিমণ মুলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক কৃষকের মুলা বিক্রি না হওয়ায় মনের দুঃখে বাজারে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে। আজ সকালে আক্কেলপুর পৌর সদরের কলেজ বাজারে কয়েকজন কৃষকের মুলা বিক্রি না হওয়ায় ড্রেনে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কৃষকদের অভিযোগ পাইকাররা সিন্ডিকেট করে মুলার বাজার ধ্বংশ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে,আক্কেলপুর উপজেলার এবার ১৫ হেক্টর জমিতে মুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে মুলা চাষ করা হয়েছে। এ কারণে মুলা চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা মুলার সঠিক দাম না পাওয়ায় ভবিষ্যতে মুলা চাষের আগ্রহ হাড়িয়ে ফেলছে।
আক্কেলপুর কলেজ বাজারে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ও পার্শ্ববর্তী বদলগাছী এবং দুপঁচাচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা সবজি নিয়ে পাইকারী বিক্রি করে। সেই সবজিগুলো পাইকাররা কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করে ঢাকা,চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ট্রাকে করে পাঠানো হয়।
আক্কেলপুর পৌর সদরের সোনামুখি গ্রামের কৃষক মামুন বলেন,এক বিঘা জমিতে মুলা চাষ করে এখন আর বিক্রি করতে পারছি না। আজ সকালে বাজারে ২ মন মুলা নিয়ে এসেছি। বিক্রি হচ্ছে না। তাই ফেরৎ নিয়ে যাচ্ছি। মুলা চাষ করে মনে হয় মহাবিপদে পড়েছি।
শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের কৃষক বিটু আকন্দ বলেন,এক বিঘা জমিতে মুলা চাষ করতে শ্রমিক,সেচ,সার,পরিবহনসহ খরচ হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। মুলা উৎপাদন হয় ৪০ থেকে ৫০ মন, যার বর্তমান বাজার মূল্য ২ হাজার টাকা। পাইকাররা সিন্ডিকেট করে বাজারের এই পরিস্থিতি করেছে। ব্যবসায়ীদের সমিতি আছে,পরিবহন মালিকদের সমিতি আছে,নেই শুধু কৃষকদের সমিতি। ধান আবাদ করে দাম পাচ্ছি না। সবজিতেও একই অবস্থা,এখন চাষাবাদ বাদ দিলে খাব কি ?
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন,উপজেলায় এবারও মুলা চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন বেশী হওয়ায় ও শীতের কারণে কৃষকরা মুলার সঠিক দাম পাচ্ছে না। এ কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।