ফরিদুল ইসলাম, ডিমলা : নীলফামারীর ডিমলায় জমি সংক্রান্ত জেরে মারপিটের ঘটনায় ঘটনার ২২দিন পর চিকিৎসাধীন থেকে অবশেষ মৃত্যুরবণ করেছে মারপিটের শিকার মোঃ রবিয়াল নামের এক ব্যক্তি। ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বারের স্ত্রী মোছাঃ জমিলা বেগম বেইল্লার সাথে একই গ্রামের মৃত আলম খাঁর পুত্র মোঃ শফিকুল ইসলাম ছবি ও মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ীর পাশ্বেই একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ১৩ ডিসেম্বর ঐ বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষের জন্য যাওয়া জমিলা বেগম ও তার স্বামীকে মারপিট করতে থাকে বিপক্ষ শফিকুল ইসলাম ছবি ও তার পক্ষীয় লোকজনেরা। এসময় পার্শ্বের জমিতে কাজ করতে থাকা দিনমুজুর আব্দুল জব্বারের ছোট ভাই মোঃ রবিয়াল ছুটে আসে মার খেতে থাকা ভাই জব্বারেেক বাঁচাতে। এ কারনে বিপক্ষ শফিকুল ইসলাম ছবি’র লোকজন পিটিয়ে পা ভেঁঙ্গে দিয়ে গুরুতর আহত করে মোঃ রবিয়াল (৪৫), জমিলা বেগম বেইল্লা (৩৫) ও আব্দুল জব্বার (৪৮) কে। গুরুতর আহত হয়ে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জমিলা বেগম ডিমলা থানায় মারপিটের ঘটনা উল্লেখ করে থানা একটি অভিযোগ দাখিল করেন ঘটনার পরের দিন ১৪ ডিসেম্বর। উক্ত অভিযোগে ঘটনার সাথে জড়িত ৮জন কে বিবাদী করে জমিলা বেগম ওরফে বেইল্লা। এরপর থেকেই দেবর রবিয়াল স্বামী আব্দুল জব্বার সাথে নিয়ে ডিমলা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন থাকে জমিলা বেগম। কিন্তু প্রায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও রবিয়াল সুস্থ্য না হয়ে আরো বেশী অসুস্থ্য হয়ে পরে। ফলে গত ৩ জানুয়ারী ডিমলা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিয়াল ও জমিলার স্বামী আব্দুল জব্বারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জানুয়ারী সকালে রবিয়াল মৃর্ত্যূ বরণ করে। রবিয়ালের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে দিনমুজুর রবিয়ালের বাড়ীতে। এ ঘটনায় জমিলা ওরয়ে বেইল্লা ডিমলা থানায় আবারও অভিযোগ করায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১ নং আসামী শফিকুল ইসলাম ওরফে ছবিকে নাউতারা বাজার থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন ডিমলা থানা পুলিশ। রবিয়ালে মুর্ত্যুর পর রংপুর হাসপাতাল থেকে মৃত রবিয়ালকে তার নিজ বাড়ী আকাশকুড়ি গ্রামে আনা হয়েছে বিকাল সাড়ে ৩ টায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রবিয়ালের মৃতদেহ তার নিজ বাড়ীতে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ডিমলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তবে মৃত রবিয়ালের লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে কি না সে বিষয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যস্ত কিছুই জানা যায়নি।