• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

জলঢাকার ১০ জামায়াত নেতার মালামাল ক্রোকের আদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীতে জালিয়াতির মাধ্যেমে জামিন নেয়া একটি মামলার একাধিক জামায়াত নেতার মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের আদেশ পেয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন মহল। এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার জলঢাকা উপজেলায়।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর বিকালে জলঢাকা উপজেলা শহরের পেট্রোল পাম্প এলাকায় জামায়াত শিবিরের সঙ্গে  পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ সদস্য আজিজুর রহমান জামায়াত শিবিরের হামলায় গুরুতর  আহত হন। সেদিন রাতেই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২০ নভেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত পুলিশ সদস্য রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার মহেশা গ্রামের আবুল কাশেম মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জলঢাকা থানা একটি হত্যা মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে নীলফামারী আদালতে জিআর ১৪৮/১৩ নামে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় জলঢাকা উপজেলা জামায়াতে আমীর সাদের হোসেন, উপজেলা জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান, জেলা জামায়াত নেতা আন্তাজুল হক, জেলা জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান জুয়েল এরা জালিয়াতির মাধ্যেমে কাগজ পত্র তৈরী করে আদালতে উপস্থাপন করে যে, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে পুলিশের হাতে আটক হবার পরে জেলা কারাগারে রয়েছে এবং হাজতি আসামী হিসাবে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পায়। থানা পুলিশের দাবী এরা কখনোই গত বছর ওই দুটি মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়নি এবং আদালতেও আত্মসমর্পন করেনি ও জেল হাজতেও যায়নি। তাহলে কিভাবে তারা গ্রেফতারকৃত আসামী হয়। জেলা কারাগার সুত্র জানায়, গত বছর ওই নামীয় কোন আসামী ওই সময়ে জেলা কারাগারে ছিল না। অপরদিকে ওই জামিন প্রাপ্তরাই একই সময়ে তাদের তিন জনের কর্মস্থল জামায়াত নিয়ন্ত্রিত জলঢাকা আইডিয়াল কলেজে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একই ব্যাক্তি একই সময়ে কিভাবে জেলখানা ও বাইরে কর্মস্থলে থাকতে পারে। তাদের জামিনের বর্ণনা মতে, তারা গ্রেফতার বা আত্ম¡সমর্পন করে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। প্রশ্ন উঠেছে আইন শৃংখলা বাহিনী তাদেরকে গ্রেফতার না করা সত্বেও ও আদালতে আত্বসমর্পন না করেও কিভাবে জেল থেকে জামিন পেলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস হতে এ বছর পর্যন্ত তারা জামিনের আসামী হিসাবে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছেন। বর্তমানেও জলঢাকা আদালতের জিআরও এসআই গৌতম বিষয়টি নিয়ে নানা টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। কেননা আদালতে জামিন না নেয়া আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হলেও  দীর্ঘ সময়েও আদালতের দেয়া ওয়ারেন্ট জিআরও অফিসেই পড়ে থাকে। যা কখনো থানা পর্যন্ত পৌছে নি। এ ঘটনাটি ফাস হয়ে পড়লে নড়েচড়ে উঠে কতৃপক্ষ। আদালত বিষয়টি’র গুরত্ব বিবেচনা করে জলঢাকা থানার জিআর-১৪৮/১৩ মামলায় পলাতক আসামীদের মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেয়। এ আদেশটি জলঢাকা থানায় পৌছলে আদেশ তামিলে নেমে পড়েছে জলঢাকা থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ