• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ রুটে মাদক পাচারে এবার নারী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে শুক্রবার পুলিশের ধাওয়া খেয়ে এক মটরসাইকেল চালক দুই আরোহী নিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
এ সময় ফেনসিডিলের বোতল চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। পুলিশ ফেনসিডিল কুড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত সাথী খাতুন ও তার শিশু সন্তান বিপাশাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বিলম্ব ঘটে। পরে তাদের সাধুহাটী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যাক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বংকিরা পুলিশ ফাড়ির তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে একটি মটরসাইকেল ধাওয়া করে। বহনকারীরা মাদক ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা বেপরোয়া গতিতে পালাতে থাকে। এক পর্যায়ে ঝিনাইদহ চুয়াডাঙ্গা সড়কের সাধুহাটী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে মটরসাইকেলটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
দুর্ঘটনায় সাথি খাতুন ও তার শিশু কন্যা বিপাশা আহত হয়। আটক করা হয় মটরসাইকেল চালক ও মাদক ব্যবসায়ী শিপলুকে। সাধুহাটী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার গ্রহনের সময় আহত বিপাশা জানান, তিনি দুই হাজার টাকার চুক্তিতে শিলুর সাথে বহনকারী হিসেবে আসেন।
শিপলু সম্পর্কে তার কিছুই হয় না। তিনি নিজেকে সাথী খাতুন ও তার শিশুকে বিপাশা এবং চালককে শিপলু বলে দাবী করেন। তাদের বাড়ি দর্শনার আকুন্দবাড়িয়ায় বলেও কথিত সাথী খাতুন দাবী করেন।
তবে রাত নয়টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বংকিরা পুলিশ ফাড়ির তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা জামান খবরের সত্যতা স্বীকার করে এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি বলেন এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তবে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শাহিন জানান, তিনি বাইরে আছেন। থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন। এদিকে প্রতাক্ষদর্শী সাদুহাটী এলাকার অনেক কৃষক জানান, দুর্ঘটনায় প্রায় ২/৩’শ বোতল ফেনসিডিল রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে।

শৈলকুপায় এবার ছাগল পালন নিষিদ্ধ হল ৪৩ গ্রামে
ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার ৪৩টি গ্রামে ছাগল পালনে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে গ্রাম্য মাতুব্বরগণ। এতে বিপাকে পড়েছে হত দরিদ্র মানুষেরা। গ্রামের অনেক দরিদ্র পরিবার ছাগল পালন করে বাড়তি আয় করে থাকে।
আবার অনেকে ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। ছাগলে ক্ষেত খায় এ অজুহাত তুলে মাতব্বরগণ গ্রামে বৈঠক করে ছাগল পালন নিষিদ্ধ করেছে। আর মাতুব্বরদের এ অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না দরিদ্র মানুষ। একটি ছাগল পালন করে বছর শেষে মহিলারা ১৫/২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করে থাকেন।
ব্যাংক ও এনজিও গুলো ছাগল পালনে ঋণ দেয়। ছাগল পালন দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করে থাকে। বাড়িতে বেঁধে ছাগল পালন করা যায়। আবার কেউ কেউ নদী তীর ও খালের পাড়ে চড়ায়ে ছাগল পালন করে।
শৈলকুপা উপজেলার ৪৩টি গ্রাম ছাড়াও ঝিনাইদহ জেলার আরো গ্রামে ছাগল পালনে মাতুব্বরদের নিষেধাজ্ঞা আছে। আর ছাগল পালনে বাধা আসায় ছাগলের উৎপাদন কমছে। তবে বাজারে প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে জেলার হাট-বাজারে খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭শ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের মাংসের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ আসছে না।
ঝিনাইদহ জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার হাফিজুর রহমান জানান, ছাগল পালন বন্ধ করা অযৌক্তিক ব্যাপার। ছাগলে অন্যের ফসলের যাতে ক্ষতি না করে সে দিকে দৃষ্টি রাখলে সমস্যা থাকে না। বন্ধ করা ঠিক হয়নি।

ঝিনাইদহে শেখ হাসিনার ৩ বছর পুর্তিতে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা
বর্তমান সরকারের ৩ বছর পুর্তিতে ঝিনাইদহে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ।কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার সকালে শহরের পায়রাচত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পোষ্ট অফিস মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রানা হামিদ, কেসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক রিপন, সাধারণ সম্পাদক আবু সুমন বিশ্বাস, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আওয়াল, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি খায়রুল ইসলাম টিটন, পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব হাসান প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক তামিম আহমেদ, আই এইচ টি ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহাইমিনুল ইসলাম লিওন, যুগ্ম-আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান এলিট, ভেটেরিনারী কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ফাহিম হাসান সনিসহ নেতাকর্মীরা।
সেসময় বক্তারা, বর্তমান সরকারের ৩ বছরে সাফল্য ও দেশের উন্নয়নের জন্য  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

একাধিক মামলার আসামী কতৃক কুপিয়ে পান ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারে সোহরাব হোসেন (৩৩) নামে এক পান ব্যাবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আহত সোহরাব হোসেন হাটবাকুয়া গ্রামের শরিফুল লস্কারের ছেলে।
শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বাজারের লোকজন উদ্ধার করে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত সোহরাব হোসেন জানান, রাতে তিনি বালিয়াডাঙ্গা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
এ সময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামী মগরখালী গ্রামের কামরুল, একই গ্রামের আবু জাফর ও মহিষহাটি গ্রামের মোশাররফের নেতৃত্বে ৮/৯ জনের একদল সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে পান বিক্রির এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা সোহরাবকে বাজারের লোকজন উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এলাকাবাসি সাংবাদিককে জানিয়েছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী মগরখালী গ্রামের কামরুল, আবু জাফর ও মহিষহাটি গ্রামের মোশাররফের নেতৃত্বে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরী হয়েছে। এই দলের বেশির ভাগ সদস্যের নামে থানায় মামলা রয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শাহিন জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

`দয়া করে আমাকে একটি কার্ড দিন’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের ছায়েম আলী জন্ম থেকেই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধি। বাবা মা বেচে থাকাবস্থায় তাদের সাথেই ছিলেন। বাবা মাহাতাব হোসেন সরদার ও মা আনোয়ারা খাতুন ইন্তেকাল করেছেন বহু বছর আগে। মাঠে শক্ত কাজ করতে পারেন না। সেই জন্য কামলা খাটার সুযোগ নেই। মাঠের ফসল কুড়িয়ে জীবীকা নির্বাহ তার।
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কাজের চাহিদাও কমে আসছে। গ্রামের মানুষ তাকে মেছের বলে ডাকেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামে তার বাড়ি। পৈত্রিক পেশা পালকী টানা। অন্যান্য ভাইয়েরা মাঠে কামলা খাটেন। কেওবা ভ্যান চালান। কিন্তু ছায়েম আলীর বেঁচে থাকার কোন পথ নেই।
মাুনষের কাছে চেয়ে চিন্তে খেয়ে আর অনুগ্রহে বেঁচে আছেন। প্রতিবিন্ধ হওয়ার কারণে কোন মেয়ে তার স্ত্রী হতে চায় নি। দুবেলা ভাত রান্না করে দেন ভাবি ও ভাতিজার স্ত্রীরা।
ছায়েম আলী বহুবার এলাকার মেম্বরের কাছে দারস্থ হয়েছেন। কিন্তু খুটোর জোর না থাকায় কেও তাকে প্রতিবন্ধি কার্ড করে দেন নি। তিনি জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবার মহানুভব ব্যক্তিদের কাছে একটি প্রতিবন্ধি কার্ডের আবেদন রেখেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ