• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ছাতকে ভ্রাম্যমান আদালতের সোয়া ৪লাখ টাকা জরিমানা

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতকে ভেজাল বিরুধী অভিযানে বিভিন্ন হোটেল-রেষ্টুরেন্ট থেকে ৪লাখ ৩০হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও অনাদায়ে একজনকে একসপ্তাহের বিনাশ্রম কারান্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। রোবার সকাল থেকে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ রেলগেইটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (চদা) শেখ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিলেট বিএসটিআইর ফিল্ড অফিসার রকিবুল হাসান রিপন ও র‌্যব-৯ এর এএসপি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যাবের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় ডায়না হোটেলে দেড় লাখ, নিজাম উদ্দিনের হোটেলে ১০হাজার, বুরাইয়া হোটেলে ১লাখ, লন্ডন হোটেলে ৫০হাজার, সোনার বাংলা হোটেলে ১লাখ, ফুলকলি মিষ্টি দোকানে ৫০হাজার, বিছমিল্লাহ হোটেলে ১০হাজার ও বনফুল মিষ্টি দোকানে ১০হাজারসহ ৪লাখ ৮০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু ফুলকলির ম্যানেজার ৫০হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ না করায় তাকে এক সপ্তাহের বিাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। এসময় নিজের কম্পিউটার থেকে পর্নো ছবি বিভিন্ন মোবাইলে সরবরাহের অভিযোগে রেদ্বোয়ান নামের এক কম্পিউটার দোকানের মালিককে ৪মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দন্ডিত হোটেল-রেষ্টুরেন্টের বিরুদ্ধে বিএসটিআইর অনুমতি ও সীল ছাড়াই মিষ্টি ও দই উৎপাদন, বাসি ও দূর্গন্ধযুক্ত জিলাপী বিক্রি, মিষ্টি তৈরীতে নিম্নমানের তেল, ময়দার বদলে নিম্নমানের আটা, আটা-ময়দায় পোকা-মাকড়, মরিচের বদলে ইটের লাল রং দিয়ে তরকারি রান্না, তরকারিতে পিঁপড়া ও পোকা-মাকড়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ খাবার তৈরী, রান্না ঘরে ময়লা-আবর্জনা, বাসি ও পুরানো খাবার সরবরাহ, ফ্রিজে ৬মাস আগের মাছ, মাংশ ও মরা মোরগ রাখার অভিযোগে ডায়না, বুরাইয়া, লন্ডন হোটেল, সোনার বাংলাসহ অন্যান্য হোটেলের বিরুদ্ধে এসব জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ হাফিজুর রহমান জানান, খাদ্যে ভেজাল থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এসব জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ছাতকে দু’দিনের ব্যবধানে মাদকসহ ব্যবসায়ি আটক
ছাতকে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে আবারো সাড়ে ১৪হাজার টাকা মূল্যের ৪৮বোতল ভারতীয় মদসহ এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়িকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত পৌনে ৮টায় শহরের চিকুরবাড়িস্থ সুরমা নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব আটক করা হয়। আটক মাদক ব্যবসায়ির নাম রফিক মিয়া (৪০)। সে কালারুকা ইউনিয়নের মৃত আবদুন নূর ওরফে পাগলুর পুত্র। বর্তমানে শহরের সুজনমিয়া চৌধুরী সড়কের ছোরাবনগর আবাসিক এলাকায় একটি মুদি দোকানের সাইন বোর্ডের আড়ালে দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ছাতক থানা ও সুনামগঞ্জ আদালতে চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদকের সংবাদ প্রকাশ করলে বিভিন্ন সাংবাদিকদের হুমকি ও সন্ত্রাসী কায়দায় প্রাণনাশের ভয়ভীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে  ছাতক থানায় জিডি নং ২৬৫, তাং ০৬.১১.২০১৪ইং, জিডি নং ১২৩৪, তাং ২৬.০৭.২০১৪ইং ও ২০১৬সালের ডিসেম্বরে জনৈকা জাহানারা বেগম বাদি হয়ে আরেকটি জিডি করা হয়। এসআই তরিকুল ইসলাম ফোর্সসহ চিকুরবাড়ি এলাকা থেকে মাদকসহ হাতেনাতে ব্যবসায়ি রফিককে ও তার সহযোগি একই ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের সমর আলী (৩৮)কে ৪৮বোতল ভারতীয় মদসহ আটক করেন। এরআগে গত ১২জানুয়ারি ইসলামপুর ইউনিয়নের দক্ষিন গনেশপুর থেকে সাড়ে ৩লক্ষাধিক টাকার ৪শ’ ৭১বোতল ভারতীয় মদের চালান আটক করা হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ি দক্ষিণ গনেশপুরের মৃত বশর উদ্দিনের পুত্র এখলাছ মিয়াকে আটক করা হয়। এসময় সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর শোয়েব আহমদ চৌধুরীর অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহে নাকাল ছাতকবাসী
ঘন কুয়াশা আর প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছেন ছাতকবাসী। হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা মৃদু শৈত্য প্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। হঠাৎ করে জেঁকে বসা কনকনে শীতে সবচেয়ে বেশী দূর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। আক্রান্ত হচ্ছেন ঠান্ডাজনিত নানা রোগে। দূর্দশার কমতি নেই শ্রমজীবি মানুষের বেলায়ও। হিমেল হাওয়াও প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে কাজ করতে গিয়ে পোহাচ্ছেন সীমাহীন দুর্ভোগ। ভাল নেই হতদরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষরাও। প্রচন্ড শীত ও তীব্র শৈত্য প্রবাহের কাছে কাবু তথা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সর্বস্তরের লোকজন। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাতের বেলা একটু প্রশান্তির ঘুমের আশায় একসঙ্গে চার-পাঁচজন দু’তিনটি কাঁথা-মুড়ি দিয়ে করছেন রাত্রিযাপন। উপজেলার নোয়ারাই, ইসলামপুর, চরমহল্লা, কালারুকা, ছৈলা-আফজালাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, সিংচাপইড়, ভাতগাঁও, জাউয়া, উত্তর খুরমা, দক্ষিণ খুরমা, দোলারবাজার ও ছাতক পৌরসভাসহ সবগুলো ইউনিয়নের স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ করে হিমেল হাওয়া তথা শৈত্য প্রবাহের ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। গত কয়েক দিন ধরে আকস্মিক শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকলে এসব হতদরিদ্র মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা আরো জানান, বিগত কিছুদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকার, প্রবাসী ও বিভিন্ন সমাজিক সংগঠনের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে এগুলো ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এ ব্যাপারে শীতার্ত মানুষের সহযোগীতায় এগিয়ে আসার জন্য সরকারসহ সকল সামর্থবানদের প্রতি আহবান জানান উপজেলাবাসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ