• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বেরোবি ভাইস-চ্যান্সেলর ও রেজিস্ট্রারকে লিগ্যাল নোটিশ

সিসি ডেস্ক: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী ও রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক।

সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদ্য বিদায়ী সভাপতি অধ্যাপক ড. আর এম হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান এবং সমিতির সাবেক নির্বাহী সদস্য মোঃ সাইদুর রহমানের পক্ষ থেকে নোটিশটি পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে যথাযথ জবাব চেয়েছেন। অন্যাথায় এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে। গত রবিবার নোটিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবির জানান, এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট এর পক্ষ থেকে আইনজীবী ড. কে এম হাফিজুল আলমের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আর এম হাফিজুর রহমান অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করলে ৫ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত বাছাই বোর্ডের সুপারিশের আলোকে ১৭ এপ্রিল ২০১৫ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ^বিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভায় অন্য আরো চার শিক্ষকের সাথে তাঁকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু ৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে রংপুর কোতোয়ালী থানায় পুলিশের করা একটি মামলার অজুহাতে তাঁর পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়। যদিও ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল ১৫০-২০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে।
একইভাবে পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক তাবিউর রহমান প্রধান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ সাইদুর রহমান সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করলে ১৪ আগষ্ট ২০১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ^বিদ্যালয়ের ৪৫তম সিন্ডিকেটে অন্যান্য বিভাগের আরো ২০ জন শিক্ষকের সঙ্গে তাঁদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু বাকি শিক্ষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিয়ে সিন্ডিকেট সভার দিন (১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫) থেকে তাঁদের নিয়োগ কার্যকর করা হলেও ওই দুইজনকে হাফিজুর রহমানের মতো ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়।
এরপর মামলায় নিজের কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে পদোন্নতির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহবান জানান তাবিউর রহমান প্রধান। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে মামলার নিষ্পত্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়।
অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে ২৫ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে রংপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সেটি নথীজাত করেন। মামলার এজাহার থেকে শুরু করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত উল্লিখিত শিক্ষকের কারও জড়িত থাকার প্রমান মেলেনি।
এরপর মামলা নিষ্পত্তির আলোকে তিন শিক্ষক আবেদন করলে ২ জুলাই ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ^বিদ্যালয়ের ৫০তম সিন্ডিকেটে ওই তিন শিক্ষকের পদোন্নতির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাদেরকে স্বপদে যোগদানের অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই আদেশে তাদের পদোন্নতি যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকরের কথা বলা হয়। এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ওই তিন শিক্ষক স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার সাপেক্ষে পদোন্নতি অনুমোদনের দিন থেকে অর্থাৎ ৪৩তম সিন্ডকেটের দিন থেকে ড. আর এম হাফিজুর রহমানকে অধ্যাপক হিসেবে এবং তাবিউর রহমান প্রধান ও সাইদুর রহমানকে ৪৫তম সিন্ডিকেটের দিন থেকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে আর্থিকসহ সকল সুবিধা প্রদানে জন্য ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ইং তারিখে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো সদুত্তর না পেয়ে ভাইস চ্যান্সেলর ও রেজিস্ট্রারকে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ওই তিন শিক্ষক।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কে এম হাফিজুল আলমের পাঠানো ওই নোটিশে আরো বলা হয়, ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে ওই তিন শিক্ষক প্রতিবাদ করলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এবং সিন্ডিকেটের সভাপতি হিসেবে অন্যান্য সদস্যদের ভূল তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের হয়রানি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ড. আর এম হাফিজুর রহমান বলেন, উপাচার্যের অনিয়ম ও অব্যস্থাপনার বিরুদ্ধে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করার কারনে তিনি উদ্যেশ্যমূলকভাবে আমাদের হয়রানি করেছেন। পুলিশের করার মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কারও জাড়িত থাকার প্রমান পাওয়া না গেলেও তিনি বেআইনীভাবে আমাদের পদোন্নতি আটকিয়ে রেখে সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ