সিসি নিউজ: সৈয়দপুর পৌর কাউন্সিলর আল-মামুন সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পুলিশ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী গাউসুল আযম ফারুকী। বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। গত ৯ জানুয়ারী সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ওই নির্দেশনা দেয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার বাসিন্দা গাউসুল আযম ফারুকীর নির্মাণাধিন বাসভবনের সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ ও একটি লোহার গেট বানিয়ে দেয়ার নাম করে দেড় লাখ টাকা নেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আল-মামুন সরকার। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ওই টাকা গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি কোন কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাত করেন।
একাধিকবার তাগাদা দিয়েও অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হন ফারুকী। পরে তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত থেকে ওই মামলা তদন্তের জন্য সৈয়দপুর থানায় পাঠানো হয়। থানা কর্তৃপক্ষ তদন্তের ভার দেয় উপ-পরিদর্শক (এস আই) কার্তিক চন্দ্রের ওপর। কিন্তু ওই তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিনেও বাদী বা স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য না নিয়ে তদন্তে কালক্ষেপণ করেন বলে ফারুকী অভিযোগ তুলেন।
এ বিষয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন মহলে অভিযোগ করলে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। নতুনভাবে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় উপ-পরিদর্শক (এসআই) অলকান্ত রায়কে। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে চেক সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও মামলার স্বাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
গাউসুল আযম ফারুকী অভিযোগ করে বলেন, স্বাক্ষ্য-প্রমাণ ও ব্যাংক প্রতিবেদন আমার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নেয় পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি পুলিশ সুপার ও এএসপি (সৈয়দপুর সার্কেল) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাতে উল্লেখ করেছি, বিবাদী একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় পুলিশ প্রভাবিত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে কালক্ষেপণ করেছে। বিষয়টি আদালতকেও জানিয়েছি। বিজ্ঞ আদালত গত ৯ জানুয়ারী এক আদেশে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে নির্দেশ দেন।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম আদালত থেকে নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি সংবাদকর্মীদের কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চেকের স্বাক্ষর নিশ্চিত হতে আমরা আদালতের কাছে আরও সময় চেয়েছি।
উল্লেখ্য, এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফারুকীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পৌর ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আল-মামুন সরকার।