গাজীপুর: টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত রোববার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পাশে শহীদ আহসান উল্যাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে স্থাপিত জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম সংলগ্ন মিডিয়া সেন্টারের সামনে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আখেরি মোনাজাতের মধ্য শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব তথা ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা । ইজতেমার শীর্ষ মুরুব্বি দিল্লির মাওলানা শামীম এ বয়ান দেন। বাংলায় এর তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো: নূর রহমান।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে এক কাতারে দাঁড়িয়ে শুক্রবার দুপুরেই দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি আদায় করেন জুমার নামাজ। এতে ইমামতি করেন দিল্লি মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভী।
জুমার নামাজের আগে পুরো ইজতেমা ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বয়স্কদের সঙ্গে শিশুরাও জুমার নামাজ আদায় করেন। ময়দানের মোট ১৭টি প্রবেশ পথ দিয়ে জুমায় যোগ দেন মুসল্লিরা। ইজতেমার স্বেচ্ছাসেবকরা প্রবেশদ্বারগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। মূল প্যান্ডেলের বাইরেও অনেক মুসল্লিকে জুমার নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।
ইজতেমার মাঠের জিম্মাদার তাবলিগের মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, জুম্মার নামাজে দেশী বিদেশী প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। তাবলিগ অনুসারি দলের সদস্য, তাবলিগ জামাতের কর্মী এবং টঙ্গী, গাজীপুর ও ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোর মুসল্লিরা অংশ নেন এ নামাজে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। লাখো মুসল্লির নিরাপত্তায় র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সাদা পোশাকে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১০ হাজার সদস্য কাজ করছেন তুরাগ তীর ঘিরে। এছাড়া ইজতেমার পুরো ময়দান, ময়দানের চারপাশ ও বাহিরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এ বছর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এ সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে।
এবারের বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম পর্বে ১৬টি জেলার জামাতবদ্ব ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জেলাওয়ারী ২৭টি খিত্তায় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
দ্বিতীয় পর্বের দেশের ১৭টি জেলার মুসল্লিরা ২৯টি খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। বাকী ৩১ জেলার মুসল্লিরা আগামী বছর (২০১৮) ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় শরীক হবেন বলে জানা গেছে।
৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে রাজধানী ঢাকাসহ অংশ নেয়া ১৭টি জেলা হলো-ঢাকা, চাঁদপুর, নোয়াখলী, পাবনা, নওগাঁ, কিশোরগঞ্জ, কক্রবাজার, বাগেরহাঁট, কুষ্টিয়া, বরগুনা, বরিশাল, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ি, মেহেরপুর, লালমনিরহাঁট ও দিনাজপুর।
প্রথম পর্বে অংশ নেয়া ১৬টি জেলা ছিল-গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বি-বাড়িয়া, মানিকগঞ্জ, রংপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, বান্দববান, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, যশোর, খাগড়াছড়ি, জয়পুরহাঁট, মৌলভী বাজার ও সাতক্ষিরা।
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি শেষ হয়। বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমির দিল্লীর মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন। প্রথম পর্বের চার দিন পর শুক্রবার থেকে শুরু হয় দ্বিতীয়পর্ব।