মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত “মুরব্বী ছাউনী লালঘর” একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠনের নাম। সংগঠনটি শহরের রামনগর মদিনা মসজিদ মোড় ও আশে পাশে এলাকা থেকে মাদক ও সামাজিক অবরাধ নির্মুল করতে অনেকটাই সফল হয়েছে। এই কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে সমাজসেবী ও গবেষক আলহাজ¦ মো. সাদেক আলীর নেতৃত্বে এই সংগঠনের মাধ্যমে।
২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ব্যাংকার জাহিদ, নজরুল ইসলাম ও ইউসুফ আলীসহ সংগঠনের ১৮০ জন সচেতন অভিভাবক সদস্যের সহযোগিতায় স্থাপিত হয় মুরব্বী ছাউনী লালঘর। সংগঠটির আওতায় রয়েছে ৩টি জামে মসজিদের প্রায় ১ হাজার পরিবার।
এই সংগঠনে কোন তরুন বা যুবক সদস্য নেই। সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যকের বয়স ৫৫ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মসজিদের পেশ ইমাম, মোয়াজ্জিন, শিক্ষক, অধ্যাপক, প্রকৌশলী, ব্যাংকার, পুলিশ, মুদি দোকানী, ভ্যান ও অটোচালক, মুসলমান-হিন্দুসহ নানা পেশার মানুষ।
লালঘরের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে যার মাধ্যমে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় মুরব্বীগণ। সদস্যরা প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে এলাকার আঁনাচে কানাচে ও নির্জন স্থানে নজরদারী করেন। কেউ মাদক সেবন বা অসামাজিক কর্মকান্ড করা অবস্থায় ধরা পরলে তার রক্ষা নেই। তাকে ধরে আনা হয় লালঘরে এবং তার অভিভাবককে তলব করা হয়।
প্রথম বার তাকে আর্থিক জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। দ্বিতীয় বার তাকে ভালো উপদেশ ও কর্মসংস্থানের উপদেশ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। আর তৃতীয় বার ধরা পড়লে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
লালঘরে টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলহ সামাধান করা হয়। কোন যুবক-যুবতী রাত্র ১০টার পর রাস্তায় অহেতুক আড্ডাবাজী করলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা। এই সংগঠনের মাধ্যমে রামনগর মদিনা মসজিদ এলাকা থেকে মাদক সেবন ও ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাদাবাজী, ইভটিজিং, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মুল করা সম্ভব হয়েছে। যারা এলাকায় অসামাজিক কর্মকান্ড ঘটায়, তাদের পিতা বা অভিভাবকরাই এই সংগঠনের সদস্য এবং বিচারক।
মুরব্বী ছাউনী লালঘরটি ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর উদ্বোধন করেন তৎকালিন পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন র্যাব ও কোতয়ালী থানার ওসিসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা। এখানে একটি পুলিশিং কমিউনিটি রয়েছে। বর্তমান দিনাজপুর পুলিশ সুপার, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) পুলিশ কর্মকর্তারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা লালঘরকে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।
মুরব্বী ছাউনী লালঘর’র প্রতিষ্ঠাতা ও রূপকার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আলহাজ¦ সাদেক আলী জানান, সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা থাকলে যে কোন কঠিন কাজ বাস্তবায়ন করা সহজ। যারা নিজের এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত দেখতে চান এবং নিজের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করতে চান শুধু তারাই এ দায়িত্ব নিতে পারবেন। এ দেশ আমাদের কাজেই এ দেশকে সুন্দর রাখার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে বলে তিনি জানান।