• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

শর্টগানের গুলিতেই কোনিও’র মৃত্যু

রংপুর: রংপুরের কাউনিয়ার চাঞ্চল্যকর জাপানী নাগরিক হোসিও কোনি (৬৬) হত্যা মামলায় ৭ উগ্রবাদি জেএমবির বিচারের জন্য সপ্তম দিনে ময়নাতদন্তকারী ৪ চিকিৎসক, উগ্রবাদি জঙ্গি সাঈদের বাড়ি ও দোকানপাটের ৩ প্রতিবেশির সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।
এ সময় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দল আদালতকে নিশ্চিত করেন, শর্টগানের গুলিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছিল। বুক, গলায় ও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ ছাড়াও তার শরীরে আটটি ইনজুরি ছিল।
এ নিয়ে ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনের সাক্ষ্য নিলেন আদালত।

মঙ্গলবার রংপুর স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এই স্বাক্ষ্যগ্রহণ করেন। পরবর্তী শুনানি হবে ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারি।
রংপুর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক জানান, মঙ্গলবার আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তকারী ৪ চিকিৎসক তৎকালীন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম, এনাটমি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, রবি শংকর মন্ডল ও হরেন্দ্র নাথ এবং উগ্রবাদি জঙ্গি আবু সাইদের পীরগাছার কালিগঞ্জের স্টুডিও ব্যবসার এলাকাবাসি জমসেদ আলী, মতিয়ার রহমান এবং মঞ্জু মিয়া সাক্ষ্য দেন।
পিপি জানান, সাক্ষ্য দেয়ার সময় ময়নাতদন্তকারী ৪ চিকিৎসক তৎকালিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম, এনাটমি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, রবি শংকর মন্ডল ও হরেন্দ্র নাথ আদালতকে জানান, হোসিও কোনির বুকে, গলায় ও ডান হাতে গুলি লেগেছিল। গুলিগুলো ছিল শর্টগানের। বুলেট বিদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্যই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে মোট ৮ টি ইনজুরি ছিল।
পিপি জানান, সাক্ষী মঞ্জু মিয়া আদালতকে বলেছেন, “২০১৬ সালের ২৬ মে পুলিশ পীরগাছার কালিগঞ্জ বাজারে আবু সাঈদ এর স্টুডিও দোকান থেকে কম্পিউটার, মনিটর ও সিডি জব্দ করে। আমি দেখেছি। আমি আবু সাঈদকে চিনি এবং জানি। সে ওই স্টুডিওর মালিক। সেখান থেকে পুলিশ অনেকগুলো মোটরসাইকেলের প্লেট নম্বর উদ্ধারও করে।”

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামিদের দেখিয়ে দিয়ে বলেন, “তারা বিভিন্ন সময় ওই দোকানে যাতায়াত করতো।”
অপর সাক্ষী জমসেদ আলী আদালতকে বলেন, “পুলিশ যখন নম্বর প্লেটসহ অন্যান্য কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটর জব্দ করেন তা তিনি দেখেছেন। দীর্ঘদিন থেকে আবু সাঈদ সেখানে ব্যবসা করতো।”

অপর সাক্ষী মতিয়ার রহমান আদালতকে জানান, “আবু সাঈদ এর দোকানে তিনজন লোক কাজ করত। পুলিশ তার দোকান থেকে বিভিন্ন নম্বরযুক্ত অসংখ্য প্লেট, কম্পিউটার, মনিটর, প্লেট উদ্ধার করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকায় পুলিশ তাকে সেগুলো দেখায় এবং এই দোকানটি সাঈদের তা নিশ্চিত করি। এ সময় তিনিও আবু সাঈদকে সনাক্ত করেন।”

পিপি জানান, ৭ দফায় মোট ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জন সাক্ষ্য দিলো। আগামী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারিও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। সাক্ষ্যগ্রহণের আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে মামলার চার্জশিটভুক্ত গ্রেফতারকৃত আসামি উগ্রবাদি জঙ্গি জেএমবির উত্তরাঞ্চলের স্কোয়াড লিডার মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ, সাখাওয়াত হোসেনকে আদালতে আনা হয়।
চার্জশিটভুক্ত ৮ জনের মধ্যে রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং সাদ্দাম হোসেন ঢাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। আর অপর চার্জশিটভূক্ত রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনছারী এখনো পলাতক আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ