• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

যে পরিবারের কোন ছেলে সন্তান বাঁচে না

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের একটি পরিবারে কোন ছেলে সন্তান বাঁচে না। ২০ বছর পার হওয়ার আগেই ওই পরিবারের ছেলে সন্তানরা মৃত্যু বরণ করে। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন এমন একটি পরিবারের সন্ধান মিলেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভেন্নতলা গোপিনাথপুর গ্রামে।
এই গ্রামের মজিবর রহমান স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু বরণ করলেও তার দুই সন্তান বাবু ও আব্দুল সাত্তার ১৫ বছর বয়সে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করে। মজিবর রহমানের একমাত্র মেয়ে মঞ্জু বেগমের তিন ছেলে সন্তানের অবস্থাও একই রকম করুন। এরমধ্যে তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম ১৮ বছর পুর্তির আগেই মৃত্যু বরণ করেছে। এখন বাকী দুই সন্তান আনারুল ইসলাম (১০) ও সাবিকুল ইসলাম (৮) প্রতিবন্ধি হয়ে বিছানায় মৃত্যুর গুনছে।
মজিবর রহমানের স্ত্রী সিতা বেগম জানান, তার তিন সন্তানের মধ্যে দুইটি ছেলে ও একটি মেয়ে। বড় ছেলে বাবু ১৮ বছরে মৃত্যু বরণ করেন। এরপর ছেলে ছেলের বয়স ১৬ বছর হলেও সেও মারা যান। সিতা বেগম আরো জানান, একমাত্র মেয়ে মঞ্জু বেগমকে রফিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে দিয়ে ঘর জামাই রাখা হয়েছে। জামাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে।
সিতা বেগমের ভাষ্যমতে তার দুই ছেলের বয়স যখন ৬ বছর, তখন থেকেই তাদের দুই পা অবশ হয়ে ন্যাংড়া হয়ে যায়। এরপর আস্তে আস্তে দুই হাত অকেজো হয়ে বিছানাগত হয়ে পড়ে। ছেলেদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন চিকিৎসকের দারস্থ হয়েও কোন ফল পান নি বলে সিতা বেগম জানান।
ভারতের কৃষ্ণনগর, ঢাকার পঙ্গু এবং সর্বশেষ ঝিনাইদহ ও যশোরের কুইন্স হাসপাতালে ছেলেদের চিকিৎসা দিয়েছেন বলে তিনি জানান। সিতা বেগমের মেয়ে মঞ্জু বেগম জানান, ভাইদের মতোই এখন তার নিজ তিন সন্তানের অবস্থা করুন।
তিনি বলেন, তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম ১৮ বছর পুর্তির আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন। এখন বাকী দুই ছেলে সন্তান আনারুল ইসলাম (১০) ও সাবিকুল ইসলাম (৮) প্রতিবন্ধি হয়ে বিছানায় মৃত্যুর গুনছে। চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন, এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই।
এটা জন্ম ব্যাধি। মঞ্জু বেগম জানিয়েছেন, তাদের বংশে মেয়ে সন্তানরা এই রোগে আক্রান্ত হন না। তিনি ও তার দুই মেয়ে রাবিনা খাতুন (১৪) ও সাবিনা খাতুন (৯) সুস্থ আছেন। রাবিনা ক্লাস নাইনে ও সাবিনা ক্লাস থ্রিতে পড়াশোনা করছে। কেবল পুরুষরাই এই রোগে আক্রান্ত হন বলে মঞ্জু বেগম জানান।
এ বিষয়ে এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার মহিউদ্দীন জানান, আমি পরিবারটিকে চিনি। এই পরিবারে কোন ছেলে সন্তান বাঁচে না। অজ্ঞাত রোগটির চিকিৎসা করতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখন ভিটেবাড়ি ছাড়া তাদের কিছুই নেই।
ভেন্নতলা গ্রামের মন্ডল লতাফৎ হোসেন জানান, মজিবর রহমানের দুই ছেলে ও তার মেয়ের তিন ছেলের চিকিৎসার জন্য তিনি নিজে দুইবার ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু রোগটির উপযুক্ত কোন চিকিৎসা মেলেনি। তিনি পরিবারটির উপযুক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এলাকাবাসীদের মধ্যে তরুন লীগ নেতা নাসির উদ্দীন, আব্দুল্লাহ শেখ, শ্রী বিকাশ কুমার বিশ্বাস ও আব্দুল খালেক জানান, ভেন্নাতলা গ্রামের মজিবরের দুই ছেলে ও তার তিন নাতির চিকিৎসার জন্য ১০ বছর ধরে চিকিৎসা ব্যায় চালিয়ে এখন নিঃস্ব। তাদের সাহায্যে সবর এগিয়ে আসা দরকার বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ শহরের ক্রিসেন্ট প্যাথলজির প্রাইভেট প্রাকটিশনার ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ নাজমুল হুদা জানান, ৬ মাস আগে আমি চিকিৎসা দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখন রোগটি সম্পর্কে আমার সুস্পষ্ট ধারণা নেই।
তবে প্রকৃত রোগ নির্নয়ে আমি তাদের ঢাকার পিজি হাসপাতালে রেফার্ড করেছিলাম। মঞ্জু বেগমের স্বামী রফিকুল ইসলাম জানান, আমার দুই সন্তান আনারুল ইসলাম ও সাবিকুল ইসলামকে ঢাকার পিজিতে ভর্তির জন্য ডাঃ নাজমুল হুদা পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে আমরা যেতে পারিনি।

শিমুল হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে পৌর মেয়রের গুলিতে নির্ভিক সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসুচিতে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন। মনববন্ধন কর্মসুচি শেষে এক সমাবেশে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান, সাবেক সভাপতি এম সাইফুল মাবুদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এড শেখ সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম জোয়ারদার বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপু, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল কাজল, শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম বিন সাত্তার, সাবেক সাধরণ সম্পাদক তানজিলুর রহমান ডাবলু, বাংলাভিশনের আসিফ ইকবাল মাখন, আমাদের সময়ের সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ, যমুনা টিভির আহম্মেদ নাসিম আনসারী, সকালের খবরের আলী আহম্মেদ লিকু, মাছরাঙ্গা টিভির শাহরিয়ার রহমান রকি, সাংবাদিক শামিমুল ইসলাম শামিম, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান তারিক প্রমুখসহ দৈনিক সমকাল সুহৃদ সমাবেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান বলেন, আমরা আর সাংবাদিকদের লাশ দেখতে চাই না। তিনি শাহাজাদপুরের পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুকে গ্রেফতার করে ফাঁসি দাবী করে বলেন শাহাজাদপুরের সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছে। আমরা এই বর্বর হত্যার দ্রুত বিচার দাবী করছি। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা সমাজে আছে বলেই সমাজে সভ্যতা আছে।

অস্ত্র ও গুলিসহ আটক
ঝিনাইদহে দেশীয় তৈরীর ওয়ান শুট্যার গান ও ১ রাউন্ড গুলিসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার বিকালে সদর উপজেলার গান্না ও কোটচাঁদপুর উপজেলার তালিনা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের বিমল কর্মকারের ছেলে সুভাষ কর্মকার (৩০), চুটলিয়া গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ওরফে লাইফ (২২), কোটচাঁদপুর উপজেলার তালিনা গ্রামের মজনু সর্দারের ছেলে সাগর সর্দার (২৬) ও একই গ্রামের আসাদুল মন্ডলের ছেলে হাসান মন্ডল (২৮)।
ঝিনাইদহ জেলা  গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, কোটচাঁদপুর উপজেলার তালিনা গ্রামে সন্ত্রাসীরা নাশকতা মুলক কর্মকান্ড ঘটানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
সে সময় আটক করা হয় সুভাষ কর্মকার নামের একজনকে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার দেহ তল¬াসী করে জব্দ করা হয় ১টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুট্যার গান ও ১ রাউন্ড গুলি।পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক সাগর সর্দারকে তালিনা গ্রাম থেকে ও লাইফ এবং রুবেলকে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ওই এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে আসছিল বলে জানায় পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ