চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দেবকরা মারগুবা ড.শহীদল্লাহ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাগর ইসলামকে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে থেকে তুলে নেয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। এদিকে এসআই কামাল উদ্দীনকে প্রত্যাহার করে চাঁদপুর পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে।
আর সাগরকে ছেড়ে দিয়ে পরীক্ষার দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। শনিবার রাতে শাহরাস্তি মডেল থানা সুত্র এ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, উপজেলার দেবকরা ভূঁইয়া বাড়ির মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া ও নরুল হক ভূঁইয়া পরিবারের মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারী ভুমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নরুল হক ভূঁইয়া বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া সহ ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আতংকে পরীক্ষার্থী সাগর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন বাড়ি থেকে অন্যত্র সরে পড়ে। পরদিন ২ ফেব্রুয়ারী বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা দিতে আসলে কেন্দ্রের সামনে থেকে এসআই কামাল উদ্দীন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসলে তার পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি অ্যাড. ইলিয়াছ মিন্টু জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারী এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। সাগর ইসলাম আমাদের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল। বাড়ির প্রতিবেশীদের সাথে তাদের পারিবারিক সমস্যা থাকায় থানায় মামলা করা হয়।
ওই মামলায় সাগরও আসামী থাকায় সে গ্রেফতার আতংকে কুমিল্লার বিজরা এলাকায় মামার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। পরীক্ষার দিন সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল বাসার সাগরের প্রবেশ পত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করে। সাগর পরীক্ষা দিতে আসলে এস আই কামাল উদ্দিন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসলে তার পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারী বেলা ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ও ৪ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযুক্ত এস আই কামালের শাস্তির দাবীতে প্রতিবাদ ভাইরাল আকার ধারণ করলে শনিবার পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন। অভিযুক্ত এস আই কামালের দাবী তিনি ১১টা ২০ মিনিটে ওই ছাত্রকে আটক করেন। এ সময় তার হলের বাইরে থাকার কথা নয়।