ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: প্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তার বিয়ে অন্যত্র ঠিক হওয়ায় প্রেমিকের বাড়িতে গত দুই দিন ধরে প্রেমিকা অনশন করছে। দৌলতপুর থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।
এ ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের গোয়াল গ্রামে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গোয়াল গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বেশ কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে মাষ্টার্স পড়–য়াএক ছাত্রীর সাথে।
সে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামের বাবু ইসলামের মেয়ে। পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মেহেরপুরের মুজিবনগর থানায় কর্মরত। মেহেদীর সম্মতিতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পারিবারিক ভাবে তার বিয়ে ঠিক হয়।
দু’একদিনের মধ্যে তার বিয়ে হওয়ার কথা। প্রেমিক মেহেদীর বিয়ের সংবাদ পেয়ে বুধবার সকালে মাষ্টার্স পড়ুয়া প্রেমিকা মেয়েটি মেহেদীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। মেয়েটি মেহেদীর প্রেমিকা দাবী করে মেহেদীর বাবা-মাকে বিয়ে বন্ধের চাপ দিতে থাকে।
এ সময় গ্রামের লোকজন জড় হলে মেয়েটি তার প্রেমের বিষয়টি তুলে ধরে মোবাইল ফোনে রেকর্ডসহ নানান প্রমান তুলে ধরে। খবর পেয়ে বুধবার রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মেয়েটিকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করলে মেয়েটি বাড়ি ফিরে যেতে অস্বীকার করে প্রেমিকের বাড়িতেই অবস্থান করে।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়েটি প্রেমিক মেহিদীর বাড়িতে অবস্থান করছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহি উদ্দীন বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়েটিকে নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও তিনি বাড়ি ফিরে যাননি। মেহেদীর সাথে তার বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত সে বাড়ি ফিরবে না বলে মেয়েটি জানিয়েছে।
দৌলতপুর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আহমেদ কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।