• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে মহামারী আকার ধারণ করেছে ক্রিকেট জুয়া

।। নওশাদ আনসারী ।। সৈয়দপুর যাকে সবাই এক নামে শিল্প ও শিক্ষার শহর বলে চেনে। কারন যুগ যুগ ধরে ছোট শহর সৈয়দপুর শিল্প আর শিক্ষার ক্ষেত্রে রেখে চলেছে বিরাট অবদান যা আজও বর্তমান। কিন্তু অতিপরিতাপের বিষয় যে হয়তো কিছুদিন পর এই সৈয়দপুরকে মানুষ এক আরেক অন্য নামে চিনবে জুয়ার শহর বলে। অবশ্য অভিষপ্ত এই নাম সৈয়দপুরের গায়ে লাগুক তা আমরা কেউ চাই না। যদিও আজ সৈয়দপুরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে এই ক্রিকেট জুয়া। ১০ বছরের বালক থেকে ৬০ বছরের বুড়াকেও আক্রান্ত করেছে এই ক্রিকেট জুয়া। শহরের ডিঙ্গি পেরিয়ে গ্রামঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারি। শহরের বেশিরভাগ যুবক আজ এই মহামারির শিকার। নিঃস্ব হয়ে অনেকে এখন দিশেহারা। মহামারি এই রোগটি ইতিমধ্যে সৈয়দপুরের অনেক পরিবারকে করেছে সর্বসান্ত। বেড়ে গিয়েছে পারিবারিক ঝগড়া বিবাদ।
অতি ভাবনার বিষয় যে এই মহামারিতে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে সৈয়দপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রদের। যে ছাত্রদের পড়াশুনার জন্য মা-বাবা স্কুল কলেজ পাঠাই তারা আজ লাইনের পাড়ে টোকাইদের সাথে একের দুই এর সাথে হাতবাদল করছে। খুবই ভাবনার বিষয় এটি।
সৈয়দপুরের সাবেক লিবার্টি সিনেমার সামনে রেললাইনের ধারে বিশাল যে জুয়ার হাট বসে সেটা কিন্তু আজ সেখানেই সীমাবদ্ধ রইলো না। শহরের গোলাহাট, মিস্ট্রিপাড়া, প্লাজা সুপার মার্কেট, বাঁশবাড়ী, রসুলপুর, নতুন বাবুপাড়া, পুরাতন বাবুপাড়া, কাজিহাট বলতে গেলে শহরের সব মহল্লায় আচমকা এসব হাট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবং এসব ক্ষুদ্র হাটে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাদবদল হচ্ছে প্রকাশ্যে। আর প্রযুক্তির সুফলে এই মহামারিকে আইনশৃংখলা বাহিনীও চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রন করতে পারতেছে না। কারন আজকাল সব লেন দেন ইন্টারনেটে আর মোবাইলেই হয়ে যাচ্ছে।
বিপিএল শেষ শুরু আইপিএল,পিসিএল এভাবে বিগব্যাস, কাউন্টি সহ প্রতিদিন খেলা কোথাও না কোথাও হচ্ছে এবং সেই সুবাদে একের দুই আর দুই এর চার বলে হাকডাক শুনতে পাওয়া যায় সৈয়দপুরের এসব জুয়ার হাটে। এমনকি প্রতিটি বলে চলে জুয়ার বাজি। শহর কিংবা গ্রামে দোকানপাটে খেলার চ্যানেল দেখলেই হরেক রকম জুয়াড়ীর জটলা লক্ষ্য করা যায়। যদিও টিভি আর কোন ফ্যাক্ট না কারন প্রতিটি জুয়াড়ী ব্যবহার করে ইন্টারনেট সংযোগকৃত মোবাইল ফোন এবং তাতেই মুহুর্তে সব ক্রিকেট এর আপডেট তারা সেখান থেকেই পেয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এই মহামারিতে সৈয়দপুরের অনেক পরিবার সর্বসান্ত হয়েছে ঘরের দুলাল বিগড়ে গেছে বলে। পারিবারিক ঝগড়া বিবাদ এর মূল উপাদান হিসাবে কাজ করছে এই ক্রিকেট জুয়া।
কিন্তু এ অভিষাপ থেকে উত্তোরনের পথ কি? কারন শান্তির শহর সৈয়দপুরকে ভবিষ্যতে অশান্ত করতে যাচ্ছে এই ক্রিকেট জুয়া। তাহলে এই ভাইরাসকে আটকানো যায় কিভাবে। প্রশাষন এর পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু মোবাইলে লেনদেন এর সুবাদে প্রশাষনও চেষ্টা করেও পারছে না এটাকে আটকাতে।
তাহলে আপনি আর আমি কি এভাবে সৈয়দপুরকে, সৈয়দপুরের যুব সমাজকে ধংশ হতে দেখে যাবো? না তা নিশ্চয় আমরা কেও চাই না।
একে প্রতিরোধের জন্য চাই সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ। সমাজের প্রতিটি রন্ধে রন্ধে এর কুফল তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এবং যারা এর বড় লেনদেনকারী যাদের জন্য আজকের স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা বিপথগামী সে সব রাঘব বোয়ালদের চিহ্নিত করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট এর পাশাপাশি তাদের উপযুক্ত শাস্তি হউক তার জন্য প্রশাসনের সাহায্য নিতে হবে। এবং শহরের যে মহল্লায় যে প্রান্তেই এদের জটলা দেখা যায় প্রশাষন যেনো এদের ধরে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করে এটা সধী সমাজ জনগনের দাবী। আসুন না যে যার স্থান থেকে এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি প্রতিরোধ গড়ে তুলি। কারন সৈয়দপুর বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের পরিচয়…………।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ