বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তিস্তা, চাড়ালকাটা, বুড়িখোড়া, বামনডাঙ্গা, পাঙ্গাখেড়ুয়া, কুমলাই, নাউতারা, নলডাঙ্গা, ইছামতি, খড়খড়িয়া, যমুনেশ্বরীসহ ছোটবড় অন্তত ২২টি নদ-নদী।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা এই নদীগুলো এখন অনেকটাই সমতল ভূমি। সমতল ভূমির সাথে মিশে যাওয়ায় আবাদি জমিতে পরিনত হয়েছে এক সময়কার খরস্রোতা ২২টি নদ-নদী। পানি প্রবাহ না থাকায় যেটুকু আছে সেটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে। এতে করে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমিন আগামী প্রজন্মের কাছে নদী শব্দটি থেকে যাবে ইতিহাসের পাতায়।
জেলার বিভিন্ন নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো নদীর ভেতর সুবিস্তৃত ধান ক্ষেত। দেখে বোঝার উপায় নাই এগুলো এক সময়ের খরস্রোতা নদী। কোনোটিতে নামমাত্র পানি থাকলেও নেই আগের মতো মাছ। ফলে নদীর উপর জীবিকা নির্বাহকারী মানুষগুলো হয়ে পড়েছে বেকার। নদী নির্ভর অনেকে এখন পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে ঝুঁকে পড়েছে। সুকনো মৌসুমে এসব নদীর বুক চিরে স্থানীয়া চাষাবাদ করছেন বোরো ধান, তামাক, গম, পেয়াজসহ বিভিন্ন ফসল।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা খুটামারা ইউনিয়নের আরাজী কাঁঠালী গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, দাদার কাছ থেকে শুনেছি এই চাড়ালকাটা নদীর উপর দিয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও বড়বড় মালবোঝাই ও যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল করতো। তবে, এখন নদীতে হাঁটু পানিও থাকেনা।
নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী নদীর পাড়ের বাসিন্দা সুধেন চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, নদী দিয়ে বড়বড় নৌকা চলাচল করতে দেখেছি। কিন্তু বছরের পর বছর ‘নদী খনন না করায় ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে থাকে না পানি। আর সামান্য বৃষ্টিতেই দুকূল ছাপিয়ে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। এতে নষ্ট হয়ে যায় খেতের ফসল।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, এসব হারিয়ে যাওয়া বা দখল হওয়া নদী উদ্ধারে তৎপর রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।