পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগের লক্ষাধিক টাকার ঔষুধ (রিজেন্ট) মেয়াদোর্ত্তীণ ও নষ্ট হয়ে গেছে। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৩শ রোগীর আগমন ঘটলেও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অসহযোগীতার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সরকার সর্বসাধারনের রোগনির্ণয় ও পরীক্ষা নিরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করনের জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সল্পমূল্যে প্রস্রাব (রুটিন পরীক্ষা) সহ ব্লাড সুগার, ব্লাড ইউরিয়া, সিরাম বিলিরুবিন, সিরাম ক্রিয়েটিনিট, ভিডাল টেষ্ট, এএসও টাইটার ও রক্ত পরিসঞ্চালনঃ গ্রুপিং পরীক্ষার জন্য একটি প্যাথলজী বিভাগ চালু রেখেছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারীর হিসেব অনুযায়ী পীরগঞ্জ হাসপাতালের বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে ২৪০জন, জরুরী বিভাগে ০৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ভর্তি হয়েছেন ৩০জন অন্তঃবিভাগে ভর্তি রয়েছেন ৪১ জন। প্রতিদিন এ হাসপাতালে প্রায় ২৭৯জন রোগীর আগমন ঘটলেও ২০১৫-১৬ইং অর্থবছরে হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগে রোগনির্ণয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন ৩২ জন এবং ১ জানুয়ারী ২০১৭ইং থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১২ জন। অথচ হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগে সরকারী ভাবে সরবরাহ কৃত লক্ষাধিক টাকার বেশী ভাগ ঔষধ (রিজেন্ট) প্রায় মেয়াদোর্ত্তীণ ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্যাথলজী বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত টেকনিসিয়ান হাফিজ উদ্দিন ও শাইফুল ইসলাম বলেন, আগামী ২মাসের মধ্যে সকল রিজেন্টের মেয়াদোর্ত্তীণ হয়ে যাবে। তারা আরো বলেন, এ ব্যপারে স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মজিদ এ হাসপাতালের দ্বায়ীত্বে থাকা কালীন হাসপাতালে কর্মরত সব চিকিৎসক আগত রোগীদের হাসপাতাল প্যাথলজী বিভাগে সরকারি কমমূল্যে পরীক্ষাগুলি করার জন্য জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করতে অনুরোধসহ নির্দেশ প্রদান করলেও ডাক্তারদের সহযোগিতার অভাবে শারীরিক রোগনির্ণয় করার জন্য রোগীর পরামর্শ পাওয়া যায়নি।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে আগত রোগীকে রোগনির্ণয় পরামর্শ রোগীকে বা তার স্বজনদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাদের মনোনীত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রিপোর্ট দেখালে রোগীকে আর্থিক সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি সহ লাঞ্চিত হতে হয়।
এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার হুমায়ুন কবীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, মতামত নেয়ার আগে আভিযোগ কারীকে হাজির করেন, তার পর মতামত দেয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাক্তার রুস্তম আলী প্যাথলজী বিভাগের রিজেন্টের মেয়াদ উর্ত্তীণের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কিছুদিন আগে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করেছি। আগে কি হয়েছে জানিনা। তবে ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি, এখন প্যাথলজী বিভাগে রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সবধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি।