• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত জলঢাকার হাবিববুল্লা’র

বিশেষ প্রতিনিধি: স্যার আমি তাস চিনি না, তাস খেলার প্রশ্নেই উঠেনা, আমাকে ছেড়ে দিন স্যার, আমার পরীক্ষা রয়েছে। মোবাইল কোর্টে এসব কথা বলার পরও পরীক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ’র ২০ দিন জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার। শুধু তাই নয় উচ্চ আদালতে থেকে মুক্তি পেতে মামলার জাবেদা কপি পাওয়ার আশায় দরখাস্ত করলেও তা  এখনও দেয়া হয়নি। এতে করে পরীক্ষা দেয়া নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে হাবিবুল্লাহ’র।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের হরিশ্চচন্দ্র পাঠ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শিবরাত্রী পূজা বসে। এ উপলক্ষে সেখানে জুয়ার আসর বসলে, জলঢাকা থানার পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে ৫ জন জুয়ারুকে আটক করে। পুলিশ ভ্যানে করে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসার সময় হরিশ্চচন্দ্র পাঠের রাস্তা থেকে পথচারী হাবিবুল্লাহকে জুয়া খেলার অভিযোগে আটক করে জুয়ারুদের সাথে তাকেও থানায় নিয়ে আসে। পরদিন (২৬/০২/২০১৭) তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে, হাবিবুল্লাহ উল্লেখিত বক্তব্য প্রদান করে নিদোর্ষ দাবী করে। এরপরও বিচারক জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যেককে ২০ দিনের করে জেল প্রদান করেন।
হাবিবুল্লাহ নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়ার মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা গোলাম মোস্তফার ছেলে। সে দাখিল পাশ করার পর ৪ বছর মেয়াদে কৃষি ডিপ্লোমা পাশ করে ৩ বছর মেয়াদী বিএজিএড কোর্সে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রংপুর তাজহাট এর পরীক্ষার্থী এবং ১০ মার্চ/২০১৭ তারিখে ইংরেজী বিষয়ে পরীক্ষা রয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে মুক্তি পাওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য জাবেদা কপির আবেদন করে ২৬ ফেব্রুয়ারি। দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে নীলফামারী জেলা কালেক্টরেট রেকর্ড রুম শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল কোর্টের ৫৪/১৭ নং মামলার নথি প্রেরণের জন্য জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদনটি পাঠানো হয়। জারীকারক আজগার আলী ২৭ ফেব্রুয়ারি এ চিঠি গ্রহণ করলেও আজ সোমবার পর্যন্ত নথি পাওয়া যায়নি।
হাবিববুল্লার পিতা গোলাম মোস্তফা জানান আমার ছেলে সম্পূর্ণ নিদোষ। তাকে রাস্তা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  সে ভ্রাম্যমান আদালতে পরীক্ষা দেয়ার জন্য কাকুতি- মিনতি করলেও তাকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ না দিয়ে জেল দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা দিতে না পারলে তার বড় ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে জারীকারক আজগার আলীর সাথে কথা বললে তিনি ইউএনও ডাক ফাইলে দরখাস্ত আছে বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রয়েছি। আগামীকাল নথি পাঠানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ