দিনাজপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি বলেছেন, বাংলাদেশে হিজরা একটি আতংকের নাম। আর এর জন্য আমরা দায়ী। আমরা তাদের প্রতি ঘৃণার চোখে তাকাই। তাদেরকে দুর দুর করে তাড়িয়ে দেই। শহরে তাদের অনেকের বহুতল বিশিষ্ঠ বাড়ী-ঘর রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে বাড়ীতে থাকতে দেয়া হয়না। বাড়ী থেকে দুর দুর করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। জন্মদাতা বাবা মা বলে তোরা বাড়ীতে আসিসনা। তোরা বাসায় আসলে তোমাদের ভাই বোনদের ভাল জায়গায় বিয়ে হবেনা। অথচ তাদের কোন দোষ নেই।
তিনি আরো বলেন, হিজরারা কোন অসুস্থ মানুষ নয়, তারা শারীরক প্রতিবন্ধি। তাদেরকে মানুষ কাজ দেয়না, খেতে দেয়না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সমাজের উচু তলার অনেক মানুষ তাদেরকে অন্যায় কাজ করতে বাধ্য করে। কুকুর বিড়ালকেও তো মানুষ খেতে দেয়। থাকার জন্য ঘর বানিয়ে দেয়। নিশ্চই তারা কুকুর বিড়ালের থেকে নিকৃষ্ট প্রাণী নয়। আসুন আমরা সবাই মিলে তাদের পাশে দাড়াতেই। তাদেরকে কাজ দেই। দিনাজপুর শহরে ১০০ থেকে ১২০ জন হিজরা রয়েছে। আমরা সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষরা যদি এক জনকে করে কাজ দেই তাহলে তাদের কাজের অভাব থাকবে না। তারা সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে।
সোমবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে “সমাজে চরম অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য মানবপল্লী গড়ে তোলা, বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ ও অন্যান্য সামাজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ওয়ার্ল্ড লিডারশিপ ফেডারেশন কর্তৃক সোশ্যাল ইনোভেটর ক্যাটাগরীতে “ডব্লিউএলএফ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’-এ ভূষিত হওয়ায় তাকে দেয়া গণসংবর্ধনা অনষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইকবালুর রহিম এমপি এ সব কথা বলেন।
গণসংবর্ধনা কমিটির আহবায়ক দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শল্পপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব গোলাম নবী দুলালের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি এ্যাড. আব্দুল লতিফ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, অধ্যক্ষ মোঃ খালেকুজ্জামান, বিএমএ’র সভাপতি ডা. মো. ওয়ারেস, সাধারণ সম্পাদক ডা. বিকে বোস, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী শামীম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি চিত্ত ঘোষ, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ওয়াহেদুল আলম আর্টিষ্ট, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, মানবপল্লী সাথী হিজরার অন্যতম নেতা বাপ্পী, আসিন, ফিরোজ প্রমূখ।
সংবর্ধনা কমিটি এছাড়াও দিনাজপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান হুইপ ইকবালুর রহিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
দিনাজপুরে ইকবালুর রহিম এমপিকে গণসংবর্ধনা
সোমবার বিকেলে ডব্লিউএলএফ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’এ ভুষিত হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ইকবালুর রহিম এমপিকে দিনজপুর ইনিষ্টিউট প্রাঙ্গনে দিনাজপুরবাসীর পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সমাজের চরম অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায় মানুষদের জন্য মানবপল্লী গড়ে তোলা এবং বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ সহ অন্যান্য সামজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখার জন্য ওয়াল্ড লিডার সীপ ফেডারেশন কর্তৃক সোশ্যাল ইনোভেটর ক্যাটাগরিতে ডব্লিউ এলএফ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ এ তাকে ভূষিত করা হয়। এ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির মাধ্যমে তিনি বিশে^ বাংলাদেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করেছেন যা দেশবাসীর কথা দিনাজপুরবাসীর জন্য গর্ব ও পরম আনন্দের বিষয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী সংযুক্ত আআরব আমিরাতের দুবাইয়ে এই বর্ণাঢ আয়োজনে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। এ উপলক্ষে পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা নতুনপাড়া সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও সমাজ কল্যাণ (মুরুব্বী ছাউনীর) পক্ষ থেকে হুইপ ইকবালুর রহিমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৩টায় মুরুব্বী ছাউনীর সভাপতি মোঃ আজিজুল ইসলাম’র নেতৃত্বে মুরুব্বী ছাউনীর সকল নেতৃবৃন্দের উপস্থিতে হুইপ ইকবালুর রহিম’র হাতে ফুলের তোরা তুলে দেন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমীন (সুরুজ), রাসেল, চাঁন মিয়া, শাহ্ আলম, ফারুক মিয়া, সাহেদা বেগম, রহিম সুফিয়া, গয়নাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, অরানৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্কুল কলেজ মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাকে গণসংবর্ধনা জানানো হয়।