• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান সিদ্দিকী মিল্টন’র বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে।
গত মঙ্গলবার কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই গৃহবধু অসুস্থাবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা যায়, ধর্ষিতা মেয়ের পরিবারের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশির সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছে। মঙ্গলবার মেয়েটি তার নানার বাড়ি সখিপুরে অবস্থান করছিল। ওই বিরোধের সমাধানের পক্ষে রায় দেয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান মিল্টন সিদ্দিকী তার সহযোগি উপজেলার রতনগঞ্জের লাভলু সওদাগরের ছেলে মনিরকে দিয়ে নাগবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে তাকে ডেকে পাঠায়। মনির ওই গৃহবধূকে তার মা ও শ্বশুর ইউনিয়ন পরিষদে আছে জানিয়ে তার নানার বাড়ি থেকে নাগবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের দিকে যাত্রা করে।

রাস্তায় মনির জানায় ইউনিয়ন পরিষদে মিমাংসা না হয়ে কালিহাতীতে মিমাংসা হবে। কালিহাতীর উদ্দেশ্যে মোটর সাইকেলযোগে তাকে এলেঙ্গা রিসোর্টে নিয়ে আনার পর মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে চেয়ারম্যান মিল্টন সিদ্দিকী তাকে মোটরসাইকেলযোগে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সামনে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
গৃহবধুর মা জানান, তার মেয়ের বয়স ২০ বছর, তিন বছর পূর্বে পাশের গ্রামে তার বিয়ে হয়েছে। সালিশ-মীমাংসা করার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। ধর্ষিতার বড়বোন লিলি বেগম বলেন, আমার বোনের সর্বনাশ যারা করেছে ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নাগবাড়ী ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম জানান, ধর্ষিতার মায়ের ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান মিল্টন সিদ্দিকীর এটি প্রথম ঘটনা নয়। এরআগেও তিনি একাধিকবার নারীসহ জনতার হাতে ধরা পড়েছে, গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। তিনি এ জঘন্যতম ঘটনার জন্য  ইউপি চেয়ারম্যানের ফাঁসি দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নাগবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অভিযুক্ত মাকছুদুর রহমান মিল্টন সিদ্দিকী বর্তমানে এলাকা ছাড়া। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার আখেরুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে কালিহাতী থানায় দুইজনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মিল্টন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ