• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সেই ব্যাগটি যদি কেউ না নাড়াত!

সিসি ডেস্ক: সিলেটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কয়েক দিন ধরে ঘুরেফিরে একটি কথাই মনে হচ্ছে-সন্দেহজনক সে ব্যাগটি লাঠি দিয়ে নাড়া না দিলে হয়তো এত প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটত না। তারা আক্ষেপ করছেন, আরেকটু সতর্ক হলে সঠিক প্রক্রিয়ায় বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা যেত। হলুদ রঙের একটি ব্যাগের মধ্যে বোমাটি রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এর গায়ে অস্পষ্টভাবে লেখা ছিল ‘চৌধুরী বিপণী’।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিস্ফোরিত হয় প্রথম বোমাটি। উপস্থিত অনেক পুলিশ সদস্য এ সময় অপ্রস্তুত হয়ে যান। এরপর পুলিশ-র‌্যাব জায়গাটি ঘেরাও করে রাখে। এরই মধ্যে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পান উপস্থিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। একজন পুলিশ সদস্য ভিড়ের মধ্য থেকে একটি লাঠি নিয়ে সেটি দূর

থেকে গুঁতা দিয়ে নাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করেন। অল্প একটু দূরেই ছিলেন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। তিনি দৌড়ে গিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে ব্যাগটি না নাড়ানোর জন্য সতর্ক করতে থাকেন। এ সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ছোটাছুটি করতে থাকেন সবাই। অনেকে রক্তাক্ত, আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন। জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া এই বোমা বিস্ফোরণের পর তাই অনেকেই আফসোস করছেন, যদি ব্যাগটি কেউ না নাড়াত, তাহলে হয়তো এভাবে কাউকে মরতে হতো না, রক্তাক্ত হতে হতো না! গতকাল মঙ্গলবারও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মী। এ হামলার সূত্র ধরে দুটি ব্যাগের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগের ভেতরে টাইমার সার্কিটযুক্ত বোমা লুকিয়ে শিববাড়িতে ফেলে রেখে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা।

জানা গেছে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মধ্যে শনিবার প্রথম বিস্ফোরণের পর পড়ে থাকা একটি ব্যাগ দেখে দক্ষিণ সুরমা থানার এএসআই জনি লাল দে একটি লাঠি দিয়ে তা নাড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে যান, যাদের মধ্যে ছিলেন নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা সিলেটের আদালতে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়ছর ও জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম। জনি লাল দে সন্দেহজনক ব্যাগটি নাড়ানোর সময় আশপাশের সংবাদকর্মীরা ছবিও তোলেন।

এ হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো তথ্য এখনও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে নেই। মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বোমা হামলার ব্যাপারে এখনও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।’

একাধিক বোমা বিশেষজ্ঞ জানান, জঙ্গিদের ব্যবহৃত বোমায় টাইমার সার্কিট যুক্ত থাকে। নাড়ানাড়ি করলে বা জোরে চাপ খেয়ে পিন সরে গেলে যে কোনো সময় তা ফেটে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, শিববাড়ির ক্ষেত্রে এ রকম ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বেয়ারিং, দুটি মোবাইল সেট, ভেঙে টুকরো টুকরো হওয়া বেশ কিছু লোহার পাত, রক্তমাখা বেশ কিছু জামাকাপড় আলামতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

শিববাড়িতে টাইমবোমা হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে রোববার রাতে মামলা হয়েছে। মোগলাবাজার থানার এসআই শিপলু চৌধুরী বাদী হয়ে বিস্ফোরক ও দণ্ডবিধির ধারায় মামলা করেন। মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজল মামলাটির তদন্ত করছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, সিলেটে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিমের প্রধান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ-সাতজন একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে বোমা বা গ্রেনেড দেখে এগিয়ে গেলে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে।

উৎসঃ   সমকাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ