বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালনের নির্দেশনা থাকলেও দিনাজপুরের খানসামায় দিবসটি পালিত হয়নি। ফলে অটিজম সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় গৃহীত ওই সিদ্ধান্ত এ উপজেলায় উপেক্ষিত হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সূূত্র মতে, মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দিবসটি পালনে গত ২৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মো: আব্দুল মান্নান কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৭ উদযাপন সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে ‘স্বকীয়তা ও আত্মপ্রত্যয়ের পথে’ প্রতিপাদ্য বিষয় উল্লেখ করে বৃহত্তর পরিসরে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা মুলক অনুষ্ঠানের মধ্যে রচনা, কুইজ, চিত্রাংকন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে দিবস পালনের চিটিতে বৃহত্তর পরিসরে দিবসটি পালনে নীল বাতি প্রজ্জ্বলন, র্যালি এবং আলোচনা ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৭ পালনের নির্দেশ করা হয়েছে। এছাড়াও দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে পালনকারী দপ্তর অথবা সংস্থার গৃহীত কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ই-মেইলে অবহিত করার করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সারাদেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে খানসামায় দিবসটি পালন না করায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়ী করছে সংশ্লিষ্টরা। একটি সূত্রমতে, খানসামা উপজেলা শিক্ষা অফিস বিভিন্ন জাতীয় ও বিশেষ দিবসগুলোতে কোন প্রকার তদারকি না করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসব নির্দেশনা কার্যকর হয় না এ উপজেলায়।
এ ব্যাপারে খানসামা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজমল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়ে কোন চিঠি পাননি এবং দিবসটি পালনে কোন বাধ্যবাধকতা নেই বলেও জানান।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ আয়োজন উপলক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পহেলা বৈশাখে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও আড়ম্বরের সঙ্গে বাংলা বর্ষবরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে বিশ্বঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করায় বিষয়টি গুরুত্বসহ উদযাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর সার্বজনীন উৎসবটি পালনের এ নির্দেশনা খানসামার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।