• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বৈশাখী ভাতার পরিধি বাড়ছে

সিসি ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বেশ কিছু বেসরকারি খাতও এগিয়ে এসেছে বাংলা নববর্ষের ভাতা দেওয়া প্রক্রিয়ায়। ফলে পরিধি বাড়ছে বৈশাখী ভাতার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরণের ভাতা দেওয়ায় ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব এবং আন্তরিকতা বাড়বে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও বাড়বে। তবে এ আনন্দকে সার্বজনীন করতে সব ধরনের কর্মজীবীকে এ বোনাসের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি খাতের চাকরিজীবীদের গত বছর থেকেই প্রথম বারের মতো বৈশাখী ভাতা দেয়া শুরু হয়। বেসরকারি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানও স্বল্প আকারে বৈশাখী ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর কোন কোন প্রতিষ্টান নতুন করে এ ভাতা চালু করার চিন্তা ভাবনা করছে।

জানা গেছে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত সার্বজনীন বৈশাখী উৎসবকে আরো উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালনের জন্য এ ভাতা চালু করে সরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশপাশি ভবিষ্যতে বৈশাখী বোনাসকে সর্বজনীন করতে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী বোনাস পাচ্ছেন। বেসরকারি খাতের যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে কর্মীদের এ ভাতা দিয়েছে তারাও মূল বেতনের ২০ শতাংশই দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকারের এ উদ্যোগটি অত্যন্ত ভালো। সরকারি কর্মজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি কর্মজীবীদেরও এ বোনাসের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা পেট্টোলিয়াম কোম্পানি তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ বৈশাখী বোনাস দিয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানি মহা-ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, মার্চের বেতনের সঙ্গে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী বোনাস ইতিমধ্যে আমরা পেয়ে গেছি।

এ ব্যাপারে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, বৈশাখী ভাতা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভি চ্যানেলকে চিঠি পাঠানো শুরু করেছে ডিইউজে। মালিক ও সম্পাদকদের কেউই আমাদেরকে হতাশ করেননি। বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। আর দুটি গণমাধ্যম গতবছর থেকেই বৈশাখী ভাতা চালু করেছেন। এবারও তারা ভাতা দেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের মত ব্যাংকিং খাতের কর্মীরাও বৈশাখী ভাতা পাওয়া শুরু করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক তাদের কর্মীদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা দিচ্ছে। একই হারে বেসরকারি খাতের বেশ কিছু ব্যাংক এই ভাতা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাইম, আলফারাহ, ইসলামী, ইউনিয়ন, সোস্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, এনআরবি কমার্শিয়াল, শাহজালাল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। এ ছাড়া আরো বেশ কিছু ব্যাংক বৈশাখী ভাতা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ৫৭টি। গত ২০১৫ সালের হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৪ জন কর্মরত রয়েছেন। এরমধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৯২ হাজার ৭৪২ জন এবং সরকারি ব্যাংকগুলোতে ৫৮ হাজার ২৮৬ জন কর্মরত রয়েছেন। সরকারি বেসরকারি মিলে ইতিমধ্যে ব্যাংকিং খাতের বড় অংশই বৈশাখী ভাতার আওতায় চলে এসেছেন।

২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঘোষিত জাতীয় বেতন কাঠামোতে প্রথমবারের মতো বাংলা নববর্ষ ভাতা চালু করা হয়।

উৎসঃ   আমাদের সময়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ