• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সাংবাদিককে গাছে বেঁধে মারপিট: হাইকোর্টের রুল

সিসি ডেস্ক: মাদারীপুরে একজন সাংবাদিককে গাছের সাথে বেঁধে পেটানোর ঘটনা তদন্তের জন্য স্বত:প্রণোদিত হয়ে আজ রোববার একটি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

শুক্রবার স্থানীয় একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী, বাদল তালুকদারের সমর্থকেরা তাকে পেটায় বলে অভিযোগ আসে এবং তার একটি ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। তবে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে করা চাঁদাবাজির মামলায় আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক শহীদুল ইসলামকে মারধরের ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার। মি. ইসলামকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে- এমন ছবিসহ সংবাদ শনিবার একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তার ভিত্তিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার এবং কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া এসপি পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৪ মে পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মি. ইসলামের একজন সহকর্মী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলছিলেন, শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচনী এলাকায় যান শহীদুল ইসলাম। এরপর তাকে পেটানো হচ্ছে বলে খবর পান অন্য সাংবাদিকেরা।

স্থানীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “বাদল তালুকদারের লোকজন শহীদুল ইসলামকে মারধর করে তাকে পা থেকে গলা পর্যন্ত রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। ঐ অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পুলিশের গাড়িতে করে তাকে কালকিনি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়”।

তবে শহীদুল ইসলামকে পেটানো হয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার না করলেও তার বিরুদ্ধে উল্টো অর্থ দাবির অভিযোগ করছেন আওয়ামী লীগের ইউপি প্রার্থী বাদল তালুকদার।

মি তালুকদার দাবি করেন, শহীদুল ইসলাম তার বিপক্ষে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন । তিনি মিস্টার তালুকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ না করার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবী করে আসছিলেন।

মিস্টার তালকুদারের অভিযোগ, তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করলে সাংবাদিক শহীদুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন পিটিয়েছে।

“যেটা সত্যি কথা, এলাকার লোকজন তারে ধরে কিছু মাইর দিয়েছে । আমি ফেরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু পারি নাই, অনেক লোক ছিল। পরে গাছের সাথে বাঁইধা ছবি ফেসবুকে দিয়া দিছে” বলেন মি. তালুকদার।

তবে মি. ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ চাওয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন তার সহকর্মীরা। তার মুক্তির দাবিতে মানব-বন্ধনও করেছে মাদারীপুরের প্রেসক্লাব সদস্যরা।

স্থানীয় পুলিশ আওয়ামী লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নিতে চাইছিল না বলেও জানান সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম। এজন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য চাপ প্রয়োগ করছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এধরনের কোনও চাপ ছিল না বলে জানিয়েছেন কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্দু বালা।

মি. বালাও বলছেন, মি. তালুকদারের প্রতিপক্ষের হয়ে প্রচার কাজ চালিয়ে আসছিলেন শহীদুল ইসলাম। এনিয়ে আগেই দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল।

মি. বালা বলেন, ঘটনার দিন মি. ইসলামকে পেটানোর খবর পেয়ে তারা সেখানে যান এবং গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় মি. ইসলামকে তারা উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে বাদল তালুকদারের একজন ভাই এবং অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাদল তালুকদার ও তার ভাইসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা-চেষ্টার মামলা গ্রহণ করা হয়।

শনিবার মি. ইসলামের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠাতে নির্দেশ দেয় স্থানীয় আদালত।

বিবিসি বাংলা/দ্যা রিপোর্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ