জাহাঙ্গীর আলম: বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ক্রমাগত উন্নয়ন এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। এদেশের মানুষের মাথা পিছু গড় আয় অনেকাংশে বেড়েছে। এর পরেও দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী জীবন সংগ্রামে এখনও ক্ষুধা ও দারিদ্রতার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছে। দারিদ্রের করাল গ্রাস থেকে তারা কোন মতেই মুক্ত হতে পারছে না।
তেমনি বয়সের ভারে নুঁয়ে পড়া লাঠিতে ভর দিয়ে কোন রকমে হাঁটাচলা করতে পারে এবং গ্রামের সব চাইতে প্রবীন ব্যক্তি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিষন্নতায় ভুগছেন হরিবালা(৮৫) । তাঁর একটাই প্রশ্ন আর কত বয়স হলে আমি বয়স্ক ভাতা পাব? তিনি আর বলেন আমার ইউনিয়নের মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে একটি বয়স্ক ভাতার জন্য আকুতি মিনতি করে ‘আগামীতে আসলে পাবেন’ এই আশ্বাসটুকু ছাড়া আর কিছুই পাই নি। করুন আকুতি ও দু চোখ ভেজা জলে এ কথাগুলি বলেছিলেন,কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্দ্রখানা (বজরের খামার) গ্রামের ৮৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ হরিবালা । হরিবালার কোন ছেলে সন্তান নেই, তবে চারটি মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে সয় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন । এখন নিজ স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই তাঁর সংসারে । মাত্র ২ শতক জমির উপর ছোট একটি টিনের চালায় নিজ স্ত্রী নিয়ে কোনভাবেই জীবন যাপন করছেন। হরিবালার শরীলে আগের মত শক্তি না থাকায় দিনমজুরের কাজে কেউ ডাকে না। মাঝে মাঝে দুজনকে উপবাস থাকতে হয় । তবে গরম কালে বাঁশের চাটাই তুলে বসে বসে হাত পাখা তৈরী করে বাজারে বিক্রি করে কোন ভাবে সংসার চালায়।
হরিবালার স্ত্রী শান্তি বালা বলেন,আমরা অসহায় ও গরিব মানুষ আমাদেরকে দেখার জন্য যেন কেউ নেই ,আমরা চেয়ারম্যান মেম্বারদেরকে রয়স্ক ভাতার কার্ড পাওয়ার জন্য টাকা দিতে পারিনা ,তাই আমাদের কার্ডও হয়না।
ইউপি সদস্য বিমল চন্দ্রের সাথে কথা হলে তিনি জানান,হবিরবালার রয়স অনুযায়ী তিনি বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য । সামনে বরাদ্দ আসলে আমি তাঁর বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার চেষ্টা করব।
এব্যাপারে সদর ইউনিয়নের নর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ জানান, সাবেক চেয়ারম্যানের আমলে হরিবালার মত মানুষ বয়স্ক ভাতা পায়নি সেটি দুঃখ জনক । সামনের বরাদ্ধে বয়স্ক ভাতার তালিকায় হরিবালার নাম সংযুক্ত করা হবে।