• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

বিরলের হাটের খাজনা আদায় নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

দিনাজপুর প্রতিনিধি: বিরলের শহরগ্রাম ইউপি’র নাড়াবাড়িহাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে দফায় দফায় দুই গ্রামবাসির সংঘর্ষে অন্তত ৩০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৬ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ৩ জনকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নাড়াবাড়ী হাটের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিরল পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে ৫ দফা দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেজবাউল হোসেন।
এলাকাবাসি জানায়, উপজেলার ৪নং শহরগ্রাম ইউপি’র নাড়াবাড়ি হাট ১৪২৪ বাংলা সনের জন্য ইজারা গ্রহণ করেন আবুল কালাম আজাদ নামের একব্যক্তি। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে ইজারাদার আবুল কালাম আজাদ নিযুক্ত আদায়কারীরা তাঁদের ইচ্ছেমতো সপ্তাহে শুক্র ও মঙ্গলবার দুইদিন হাটের দিনে টোল আদায় করে। গত ১৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শহরগ্রাম ইউনিয়নের নোনাগ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দীনের ছেলে খাজনা আদায়কারী তোয়াবুর রহমান (৪৫) চকবালা গ্রামের মৃত মেছের মোহাম্মদের ছেলে আহেদ আলী ওরফে ভুজার (৫৫) ফলের দোকানে ১৫ টাকা খাজনা দাবি করে।
ওই দোকানদার এর আগে ৫ টাকা করে খাজনা দিয়ে আসছিলেন। অতিরিক্ত খাজনা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে খাজনা আদায়কারী তোয়াবুর রহমান লাথি মেরে ফলের ডালা ফেলে দেয়। এর প্রতিবাদ করায় দোকানদার আহেদ আলীকে চর থাপ্পর, কিল-ঘুষি মারে আদায়কারী। বয়ষ্ক দোকানদারের গায়ে হাত তোলার প্রতিবাদে আশপাশের দোকানদাররা উত্তেজিত হয়ে আদায়কারী তোয়াবুর রহমানের সাথে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে নোনাগ্রামের আফতাব উদ্দীনের দুই ছেলে এনামুল হক (৪৮) ও নাজমুল হককে (৪৪) দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
সেদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রামবাসির মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার (১৭ এপ্রিল ) বিকেলে নাড়াবাড়ী হাটে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশী বৈঠক শেষে আবারও নোনাগ্রাম ও ওকড়া গ্রামবাসি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে নোনাগ্রামের দহপাড়ার মৃত রিয়াজুল ইসলামের ছেলে আজিজুল ইসলামকে (৫৫) দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অপরপক্ষের আহত ৬ জনকে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন, ওই ইউনিয়নের ওকড়া গ্রামের মৃত নাজিম আহমেদের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৮), মৃত মাহাবুব আলমের ছেলে আশিকুল ইসলাম ওরফে আশিক (২৫), আব্দুল হাকিমের ছেলে জাফর আলী (৪২), ফাজু মোহাম্মদের ছেলে মোতাহার হোসেন (২৬), মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে সাকিল হোসেন (১৪) ও চকবালা গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে মফিজুল ইসলাম (৪৪)।
নাড়াবাগী হাটের দোকানদার মজিবর রহমান, আব্দুল গফুর, মোকলেছুর রহমান, রফিকুল ইসলামসহ অন্য কয়েকজন দোকানদার জানান, ইজারাদার আবুল কালাম আজাদ সরকারী নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তাঁর ইচ্ছে মতো খাজনা দাবী করে তা আদায় করে চলছেন। হাঁস-মুরগী, ডিম, শাকসবজি বিক্রেতাদের কাছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, হোটেল, মুদিখানা, পানের দোকানসহ অস্থায়ী অন্যান্য দোকানদারদের কাছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করেন। ধান, আলু, পিঁয়াজ মনপ্রতি জোড়পূর্বক ৭০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করেন। কেউ অতিরিক্ত খাজনা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা রকমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এছাড়াও হাটের খোলা জায়গায় ১৫ (পনের) হাজার থেকে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে দোকান ঘর বসানোর ফলে পথচারীদের চলাচলের মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের ব্যাপারে জানতে ইজারাদার আবুল কালাম আজাদ’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ইজারাদার আবুল কালাম আজাদসহ তাঁর আদায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দোকানদার ও এলাকাবাসির ৩২০ জন ব্যক্তির গণস্বাক্ষরিত ৫ দফা দাবী সম্বলিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম রওশন কবীর বলেন, নাড়াবাড়ি হাটে খাজনা আদায় করাকে কেন্দ্র করে আদায়কারী ও দোকানদারদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষকে মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে ডাকা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ