বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দূর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাফায়েত শিকদারকে সোমবার রাত দেড়টার সময় পার্ক মোড়ের রফিক হোটেল কর্তৃপক্ষের মারধরের প্রতিবাদে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টা হতে একঘন্টা ব্যাপী ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং রাস্তায় যানযট সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, সোমবার রাত দেড়টার সময় শিকদারসহ চারজন পার্ক মোড়ের রফিক হোটেলে যায় ভাত খাওয়ার জন্য। এ সময় তরকারির মান নিয়ে হোটেল মালিক রফিকুলের বড় ভাই শফিকুলের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিকদার। ঘটনার এক পর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এদিকে দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তাফা জানান, হাতাহাতির এক পর্যায়ে শিকদারকে ঘরে বন্ধী করে রেখে অন্যদের বাইরে বের করে দেয় এবং রড দিয়ে সর্বশরীরে মারধর করে। এতে শিকদার গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে রফিক হোটেলের কর্মচারী মো: খাইরুল ইসলাম বলেন, রাত দেড়টার সময় শিকদারসহ চারজন আসে ভাত খেতে। তারা মাংস খেতে চাইলে, মাংস না থাকায় পরক্ষণে তারা শুধু ডাল চায়। তখন শফিকুল ডাল -ভাত বিক্রয় করতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন শিকদার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং রড দিয়ে তার কপালে আঘাত করে। এতে তার কপাল ফেটে যায় এবং রক্ত বের হতে থাকে।
এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ জানিয়েছেন, আমরা উক্ত বিভাগের পক্ষ হতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি আমাদের আশস্ত করেছে সুষ্ঠ বিচার করার জন্য। যদি তারা বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা বাধ্য হবো উপর্যুক্ত ব্যবস্থা নিতে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না সিদ্দিকা মুঠোফোনে জানান, দূর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ হতে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো: এরশাদ আলীকে নির্দেশ দিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে বসতে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।