ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খুলনার দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে গ্রেফতার হওয়া অন্য নয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ এপ্রিল) বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সৈয়দ হায়দার আলী। সঙ্গে ছিলেন ঋষিকেষ সাহা, আবুল কালাম ও শেখ মোশফেক কবির।
পরে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আমরা আদালতকে জানিয়েছি এই মামলার নয়জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে। আদালত গ্রেফতার হওয়া নয়জনকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর বাকি দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তবে আসামিদের হাজিরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি।
একইসঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে অগ্রগতি তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১১ জুলাই দাখিল করতে বলা হয়েছে বলেও জানান সৈয়দ হায়দার আলী। এই মামলাটি তদন্ত করছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাত থেকে শুক্রবার সকল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে খুলনা থেকে সাতজন এবং ঢাকা ও গাজীপুর থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে খুলনায় মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি মামলায় জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিগণ হলেন- শেখ আবদুর রহিম (৬৮), শামসুর রহমান গাজী (৮২), জাহান আলী বিশ্বাস (৬৭), শাজাহান সরদার (৬৭), আবদুল করিম শেখ (৬৫), আবু বক্কর সরদার (৬৭) ও রওশন গাজী (৭২)। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে মো. সোহরাব হোসেন (৬২) ও গাজীপুর থেকে নাজের আলী ফকির (৬৫) নামের আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাড়িও ডুমুরিয়ায়।
প্রাথমিকভাবে তাদের ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফুলতলা থানায় করা বাস পোড়ানোর একটি মামলায় নয়জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন খুলনা জেলা ডিবির ওসি আক্কাস আলী।