• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পুকুর পূণঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ‘রংপুর বিভাগে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুকুর পূণঃখনন কাজের কোটেশনে ঘাপলার অভিযোগ উঠেছে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ভূয়া কোটেশন দেখিয়ে প্রকল্পের আওতায় কর্মরত ছিনাই ইউনিয়নের সম্প্রসারণ কর্মীকে পুকুর পূণঃখননের কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতা করে কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকৃত ঠিকাদারগণ।
এদিকে এই কোটেশনের বিষয়ে একেক কর্তৃপক্ষ একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে একে অপরকে দায়ী করেছেন।
প্রকল্প পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, কোটেশন উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে করা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, কোটেশন প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুর বিভাগে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পটি বিগত ২০১৫ সালে শুরু হয়েছে। আগামী ২০১৮ সালে এর কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এই প্রকল্পের আওতায় রাজারহাট উপজেলার আবাসন পুকুর ও উকিলের ছড়া বিল পূণঃখনন কাজের অনুমোদন আসে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি গোপন রেখে রংপুর বিভাগের আওতায় রাজারহাট উপজেলা মৎস্য অফিসের ছিনাই ইউনিয়ন সম্প্রসারন কর্মী শাহ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রিজু খন্দকারের সাথে যোগসাজস করে তার নামে ভূয়া কোটেশন তৈরী করে তাকে কাজের নির্দেশ প্রদান করেছেন। উক্ত ব্যাক্তি এরই মধ্যে আবাসন পুকুর পূনঃখনন কাজ শুরু করলেও বর্ষার কারনে তা বন্ধ হয়ে যায়। অথচ কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঠিকাদার সফিউর রহমান, লিয়াকত আলী বাবু ও আজাদ অভিযোগ করেন, পুকুর পূণঃ খননের কাজটির কোটেশন অত্যন্ত সঙ্গোপনে করা হয়েছে। এরফলে তারা প্রতিযোগিতা করে কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে বলে জানান।
এ ঘটনায় প্রকৃত ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সরকারী নীতিমালা  উপেক্ষা করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভূয়া কোটেশনের মাধ্যমে  প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত কর্মী শাহ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রিজু খন্দকারকে পুকুর খননের কাজ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়। তারা এর তদন্ত দাবী করেন।
উপজেলা মৎস্য কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, পুকুর পূণঃখননের কোটেশন বিষয়ে কিছু জানেন না। এ বিষয়ে কোন সভায় তাকে ডাকা হয়নি।
অপর সদস্য যোগেন্দ্র নাথ জানান, উকিলের ছড়া বিলটি মৎস্য চাষের জন্য তিনি লিজ নিয়েছেন। বিলটি পূণঃখননের কাজ প্রসঙ্গে তাকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাজগুলো মন্ত্রণালয় থেকে রিজু খন্দকার এনেছেন। সেই করবে। এরপর কবে কোটেশন করা হয়েছে জানি না।
কমিটির সদস্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান জানান, অনেক মিটিংয়ের চিঠিই তো আসে। সব মিটিংয়ে যাওয়া হয় না। তবে এ বিষয়ে কোন চিঠি পাননি। কোন সভাতেও যাননি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাশেম জানান, কোটেশনের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে কয়েকদিন আগে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাকে আবাসনের পুকুর পূণঃখননের কাজ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুন্নবী মিঠু বলেন, রংপুরে অবস্থিত পিডি অফিস থেকেই সবকিছু ডিল হয়। কোটেশন হয়েছে রংপুর থেকে। কাজ পেয়েছে রিজু। কত টাকার কাজ তার কাগজপত্র পিডি অফিসে আছে। সেখানে যোগাযোগ করুন। তাছাড়া রিজু’র খালাতো ভাই জয়েন্ট সেক্রেটারী-আগে জেলা মৎস্য অফিসার ছিলেন। তাকে দিয়ে কাজ করে নেয় আর কি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, এই প্রকল্পের কার্যক্রম পিডি অফিস থেকে সরাসরি  উপজেলা অফিসের মাধ্যমে করা হয়। তারপরও জেনেছি, আবাসন পুকুর পূনঃখনন প্রকল্পের বরাদ্দ ৫ লাখ এবং উকিলের ছড়া বিল পূণঃখননের বরাদ্দ ৬ লাখ মোট ১১ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দু’টি পুকুর পূণঃখনন কোটেশন রাজারহাট উপজেলা অফিস থেকেই হওয়ার কথা। এখন অফিসের কাজে ঢাকায় আছি। ফেরার পর কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত তথ্য দেবো।

রৌমারীতে আবারো ভারতীয় বন্যহাতির তান্ডব
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সীমান্ত এলাকায় রাতের আধারে আবারো ভারতীয় বন্য হাতি দল প্রবেশ করে ধান, সবজি ও কালাই ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের উপর তান্ডব চালিয়েছে। এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় বাড়ি-ঘরে বন্য হাতির হামলার আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা।
এলাকাবাসী জানায় রোববার রাত ৮ টার দিকে ভারতের কালাইয়ের চর পাহাড়ী এলাকা থেকে ৫০/৬০টি ভারতীয় বুনো হাতির একটি দল ১০৭২ আর্ন্তজাতিক সীমানা পিলারের পাশ দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের আলগার চর এলাকায় প্রবেশ করে। এসময় বন্য হাতির দলটি আলগার চর সীমান্তে প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করতে করতে ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে।
হাতির দল প্রবেশ করায় সীমান্ত এলাকার মানুষ ঘর-বাড়ি ও জানমালের ক্ষতির আশংকায় রাতভর আগুন জ্বালিয়ে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। পরে ভোররাতে হাতির দলটি সীমানা পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
এ ব্যাপারে যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরবেশ আলী জানান, ভারতের কালাইয়ের চর পাহাড়ী এলাকা থেকে হাতির দল নেমে আসলে নিজেদের ও কাঁটাতারের বেড়ার উপর সমুহ হামলার আশংকায় বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে দেয়। এতে করে সহজেই বন্য হাতির দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ফসল ও ঘর-বাড়ির ক্ষতি করে ফিরে যায়। বন্য হাতির প্রবেশ ঠেকাতে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
রৌমারী উপজেলা বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, পাহাড়ে খাদ্য সংকট দেখা দিলে হাতি গুলো লোকালয়ে নেমে আসে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করছে। আমরা গ্রামবাসীদের  আগুন জালিয়ে ও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়া আর আমাদের করার কিছু নাই।
উল্লেখ্য এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েক দফায় ভারতীয় হাতির দল রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জমির ভূট্টা, আখ, গম ও শরিষা ক্ষেতসহ ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত করেছিল। ভারতীয় এসব হাতির দল সন্ধার পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফসলের ক্ষতি করে ভোররাতে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ